০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এডিবি: ২০২৬–২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন: চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় তিন নতুন উপজেলা আগামী ৫ বছরে বিদেশে পাঠানো হবে ১ কোটি দক্ষ কর্মী: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ‘বাংলাফ্যাক্ট’: তথ্যমন্ত্রী স্বপন সরকারি তহবিল থেকে বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সরকারি তহবিল থেকে বিদেশভ্রমণ ও নতুন গাড়ি ক্রয় বন্ধ ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী সকলের সহায়তা চেয়ে বললেন, বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে—এমন আহ্বান জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য— ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, এই মেলা এবং অভিযান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও ফলপ্রসূ বিনিয়োগ; এটি কেবল বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। দেশের প্রতিটি প্রাণের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতেই এ কাজগুলো করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিতি থেকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। বনায়নে অংশ নেওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বোনাস বা লভ্যাংশের চেকও তিনি বিতরণ করেন।

সবাইকে প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, গাছ রোপণ বা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত, কিন্তু কার্যকর কাজ করার প্রয়োজন আছে। ছোটবেলায় ঢাকা শহর যতটা সবুজ দেখার ছিল, এখন তা কমে গিয়েছে—এজন্য প্রতিটি পরিবারে নতুন সন্তানের জন্মের সঙ্গে একটি গাছ রোপণের সংস্কৃতিও গড়ে তোলা উচিত। নবজাতকের স্মৃতি হিসেবে একটি গাছ রোপণ করা হলে একসঙ্গে একটি নতুন প্রাণ ও একটি গাছ বেড়ে উঠবে—এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক বদল সম্ভব।

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং সাম্প্রতিক এক কর্মসূচির আওতায় স্কুলে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ, এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে—ইনশাল্লাহ।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতিতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন—ইচ্ছেমতো গাছ লাগালে লক্ষ্য পূরণ হবে না; কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ উপযুক্ত তা জানা ও প্রাধান্য দেওয়াই জানতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রজাতি পরিহার করতে বলা হয়েছে এবং দেশীয় প্রজাতির—যেমন ঔষধি গাছ, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ উদ্ভিদ, ফলদ ও অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

গাছ রোপণের পর সেগুলোকে লালন-পালন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু—এসব উপাদান মিলে একটি ইকোসিস্টেম গঠিত হয়; বনায়নের মাধ্যমে সেই ইকোসিস্টেম বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। একই সময় তিনি ‘মাদার ট্রি’ হিসেবে স্থানীয় ও যুগ যুগ ধরে থাকা বড় গাছগুলো রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করার অনুরোধ জানান।

বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কড়াভাবে দমন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বহুদিনের মাইন্ডসেট বদলানো কঠিন, তাই মানুষকে বোঝানো-শুনিয়েই এই পরিবর্তন আনতে হবে এবং প্রত্যেককে যেখানে সম্ভব পশু-পাখি রক্ষায় অবদান রাখার আহ্বান জানান।

তিনি নদী রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা বিপন্ন হবে—এটি ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না; প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

সরকার ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দু’পাশ সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততা—দেশের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে বারবার চ্যালেঞ্জ করছে; তাই পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন আনার তাও তিনি উল্লেখ করেছেন। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের কর্মসূচি কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে; তবু পরিবেশ উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না—এসব সহায়ক উদ্যোগ মাত্র। তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা যাবে না; প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ দরকার—সার্বজনীন সচেতনতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে বদল।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী ও জলাভূমি ভরাট ও বন উজাড়ের কারণে জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়ছে—এই সতর্কতাও তিনি দেন। বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীবের আবাসসংকোচ রোধে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারীরা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী

চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী সকলের সহায়তা চেয়ে বললেন, বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে—এমন আহ্বান জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য— ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, এই মেলা এবং অভিযান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও ফলপ্রসূ বিনিয়োগ; এটি কেবল বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। দেশের প্রতিটি প্রাণের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতেই এ কাজগুলো করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিতি থেকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। বনায়নে অংশ নেওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বোনাস বা লভ্যাংশের চেকও তিনি বিতরণ করেন।

সবাইকে প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, গাছ রোপণ বা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত, কিন্তু কার্যকর কাজ করার প্রয়োজন আছে। ছোটবেলায় ঢাকা শহর যতটা সবুজ দেখার ছিল, এখন তা কমে গিয়েছে—এজন্য প্রতিটি পরিবারে নতুন সন্তানের জন্মের সঙ্গে একটি গাছ রোপণের সংস্কৃতিও গড়ে তোলা উচিত। নবজাতকের স্মৃতি হিসেবে একটি গাছ রোপণ করা হলে একসঙ্গে একটি নতুন প্রাণ ও একটি গাছ বেড়ে উঠবে—এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক বদল সম্ভব।

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং সাম্প্রতিক এক কর্মসূচির আওতায় স্কুলে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ, এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে—ইনশাল্লাহ।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতিতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন—ইচ্ছেমতো গাছ লাগালে লক্ষ্য পূরণ হবে না; কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ উপযুক্ত তা জানা ও প্রাধান্য দেওয়াই জানতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রজাতি পরিহার করতে বলা হয়েছে এবং দেশীয় প্রজাতির—যেমন ঔষধি গাছ, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ উদ্ভিদ, ফলদ ও অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

গাছ রোপণের পর সেগুলোকে লালন-পালন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু—এসব উপাদান মিলে একটি ইকোসিস্টেম গঠিত হয়; বনায়নের মাধ্যমে সেই ইকোসিস্টেম বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। একই সময় তিনি ‘মাদার ট্রি’ হিসেবে স্থানীয় ও যুগ যুগ ধরে থাকা বড় গাছগুলো রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করার অনুরোধ জানান।

বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কড়াভাবে দমন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বহুদিনের মাইন্ডসেট বদলানো কঠিন, তাই মানুষকে বোঝানো-শুনিয়েই এই পরিবর্তন আনতে হবে এবং প্রত্যেককে যেখানে সম্ভব পশু-পাখি রক্ষায় অবদান রাখার আহ্বান জানান।

তিনি নদী রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা বিপন্ন হবে—এটি ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না; প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

সরকার ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দু’পাশ সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততা—দেশের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে বারবার চ্যালেঞ্জ করছে; তাই পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন আনার তাও তিনি উল্লেখ করেছেন। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের কর্মসূচি কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে; তবু পরিবেশ উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না—এসব সহায়ক উদ্যোগ মাত্র। তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা যাবে না; প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ দরকার—সার্বজনীন সচেতনতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে বদল।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী ও জলাভূমি ভরাট ও বন উজাড়ের কারণে জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়ছে—এই সতর্কতাও তিনি দেন। বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীবের আবাসসংকোচ রোধে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারীরা বক্তব্য রাখেন।