১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মর্যাদার লড়াই: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই দলীয় লড়াই—একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ যা ফুটবলভক্তদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মাঠের বাইরেও দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক ও ফুটবল বৈরিতার কারণে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ; কার্যত পুরো আটলান্টা ‘রেড অ্যালার্ট’ মোডে রয়েছে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের লড়াই কেবল ক্রীড়া নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই—এখানে ইতিহাস, রাজনীতি ও আবেগও মিশে আছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস) যুদ্ধ দুদেশের মধ্যে সেই মনস্তাত্বিক ক্ষত গড়ে দিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে মাঠেও প্রতিফলিত হয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’—এই দুই ঘটনাই তাদের উত্তেজনাকে ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী করে রেখেছে। সেই ম্যাচগুলো থেকে শুরু করে আজকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবাই মিলিয়ে এটা এক বারুদবাহী ইতিহাস।

এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্যও বিশেষ: লিওনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের এমন মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছেন বড় সুযোগে। আর ইংল্যান্ডও নিজেদের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুরনো লালচে ক্ষত আর প্রতিদান খুঁজতে আটলান্টার মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে ইতিহাসের গাঁথুনিতে যুক্ত এই সব মাত্রা ম্যাচটিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও গতকাল-বছরের সাক্ষী

দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু থেকে নানা নাটক, ভিড়ভাট এবং বিতর্কের সাক্ষী। অফিসিয়াল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শেষবার তারা লড়াই করেছে ২০০২ বিশ্বকাপে, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল। এবার একই বিশ্বকাপ মঞ্চে ২৪ বছর পর পুনর্মিলন। চলছে ফিরে দেখা—এই দ্বৈরথের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অধ্যায়:

হ্যান্ড অব গড (১৯৮৬)

১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন—একটি বিতর্কিত, একটি ঐতিহাসিক। হাতে করা গোলটি (হ্যান্ড অব গড) রেফারি ধরতে ব্যর্থ হলেও বিশ্বব্যাপী তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এরপরই ম্যারাডোনা ধীরে ধীরে পুরো প্রতিরক্ষাকে ছুঁয়ে অসাধারণ এক গোল করে ম্যাচের বিধ্বংসী মূর্তিতে পরিণত করেন। ওই দিন আর্জেন্টিনা ২-১ গুন্তে জয় পেয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে শিরোপা জিতেছিল।

রাত্তিনকে মাঠ থেকে টেনে নেওয়া (১৯৬৬)

১৯৬৬ বিশ্বকাপ কিক-অফের সময় ওয়েম্বলিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে রেফারির নির্দেশে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। ভাষাগত সমস্যা ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যার অভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে; খেলাটি কয়েক মিনিট বন্ধ থাকে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে রাত্তিনকে বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনা পরবর্তীতে কার্ড ব্যবস্থার প্রবর্তনের দিকে এক ভূমিকা রাখে বলে ধরা হয়।

বার্তোনির ঘুষি (১৯৭৭)

এক প্রীতি ম্যাচে উত্তেজনার উত্তেজনায় আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি ইংলিশ খেলোয়াড় ট্রেভর চেরির মুখে ঘুষি মারেন। সেই আঘাতে চেরির সামনের দাঁত ভেঙে যায় এবং উভয় খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়—এ ঘটনা দুই দেশের মৈত্রীপূর্ণ ম্যাচেও উত্তেজনা কতখানি বাড়তে পারে তা 보여줏।

পচেত্তিনো ফাউল এবং বেকহ্যামের পেনাল্টি (২০০২)

২০০২ বিশ্বকাপে পিয়ারলুইজি কোলিনা রেফারিং-এ একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেন—মারিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে সিগন্যাল। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দেন। পরে পচেত্তিনো দাবি করেন ওভেন ডাইভ করেছিলেন; সেই বিতর্ক আজও স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

বেকহ্যামের লাল কার্ড (১৯৯৮)

১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম দায়ের একটি লাল কার্ড ম্যাচের রূপটাই পাল্টে দেয়। ম্যাচটি টাইব্রেকারে গিয়ে আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে—ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এটি একটি ব্যথাদায়ক স্মৃতি হয়ে থাকে।

সেমিফাইনাল রেকর্ড ও প্রতীক্ষা

আইতিহাসিকভাবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা শক্তিশালী পারফর্ম করেছে—বিবেচ্য সংখ্যকবার সেমিতে উঠে জয় পেয়েছে সে সম্পর্কে গৌরবময় রেকর্ড জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে উঠার সংখ্যা তুলনামূলক কম; তারা ১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে খেয়েছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠে শিরোপাও জিতেছে; ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে সেমি হারে তারা বিদায় নিয়েছিল।

আজকের ম্যাচ—মাঠে এখানকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইতিহাস, অহংকার এবং জাতিগত আবেগও এ লড়াইতে প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে। হ্যারি কেইন-র নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড বনাম মেসি-নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা—কারা জিতবে, তা নির্ধারণ করবে ফুটবলই। দর্শকরা কেবল এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষাই নয়, বরং দুই দেশের শোক-স্মৃতি ও পুনরুত্থানের নীরব যুদ্ধেরও সাক্ষী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বসে আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

মর্যাদার লড়াই: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই দলীয় লড়াই—একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ যা ফুটবলভক্তদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মাঠের বাইরেও দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক ও ফুটবল বৈরিতার কারণে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ; কার্যত পুরো আটলান্টা ‘রেড অ্যালার্ট’ মোডে রয়েছে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের লড়াই কেবল ক্রীড়া নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই—এখানে ইতিহাস, রাজনীতি ও আবেগও মিশে আছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস) যুদ্ধ দুদেশের মধ্যে সেই মনস্তাত্বিক ক্ষত গড়ে দিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে মাঠেও প্রতিফলিত হয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’—এই দুই ঘটনাই তাদের উত্তেজনাকে ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী করে রেখেছে। সেই ম্যাচগুলো থেকে শুরু করে আজকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবাই মিলিয়ে এটা এক বারুদবাহী ইতিহাস।

এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্যও বিশেষ: লিওনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের এমন মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছেন বড় সুযোগে। আর ইংল্যান্ডও নিজেদের দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুরনো লালচে ক্ষত আর প্রতিদান খুঁজতে আটলান্টার মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে ইতিহাসের গাঁথুনিতে যুক্ত এই সব মাত্রা ম্যাচটিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও গতকাল-বছরের সাক্ষী

দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু থেকে নানা নাটক, ভিড়ভাট এবং বিতর্কের সাক্ষী। অফিসিয়াল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শেষবার তারা লড়াই করেছে ২০০২ বিশ্বকাপে, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল। এবার একই বিশ্বকাপ মঞ্চে ২৪ বছর পর পুনর্মিলন। চলছে ফিরে দেখা—এই দ্বৈরথের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অধ্যায়:

হ্যান্ড অব গড (১৯৮৬)

১৯৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন—একটি বিতর্কিত, একটি ঐতিহাসিক। হাতে করা গোলটি (হ্যান্ড অব গড) রেফারি ধরতে ব্যর্থ হলেও বিশ্বব্যাপী তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এরপরই ম্যারাডোনা ধীরে ধীরে পুরো প্রতিরক্ষাকে ছুঁয়ে অসাধারণ এক গোল করে ম্যাচের বিধ্বংসী মূর্তিতে পরিণত করেন। ওই দিন আর্জেন্টিনা ২-১ গুন্তে জয় পেয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে শিরোপা জিতেছিল।

রাত্তিনকে মাঠ থেকে টেনে নেওয়া (১৯৬৬)

১৯৬৬ বিশ্বকাপ কিক-অফের সময় ওয়েম্বলিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে রেফারির নির্দেশে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। ভাষাগত সমস্যা ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যার অভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে; খেলাটি কয়েক মিনিট বন্ধ থাকে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে রাত্তিনকে বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনা পরবর্তীতে কার্ড ব্যবস্থার প্রবর্তনের দিকে এক ভূমিকা রাখে বলে ধরা হয়।

বার্তোনির ঘুষি (১৯৭৭)

এক প্রীতি ম্যাচে উত্তেজনার উত্তেজনায় আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি ইংলিশ খেলোয়াড় ট্রেভর চেরির মুখে ঘুষি মারেন। সেই আঘাতে চেরির সামনের দাঁত ভেঙে যায় এবং উভয় খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়—এ ঘটনা দুই দেশের মৈত্রীপূর্ণ ম্যাচেও উত্তেজনা কতখানি বাড়তে পারে তা 보여줏।

পচেত্তিনো ফাউল এবং বেকহ্যামের পেনাল্টি (২০০২)

২০০২ বিশ্বকাপে পিয়ারলুইজি কোলিনা রেফারিং-এ একটি বিতর্কিত পেনাল্টি দেন—মারিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে সিগন্যাল। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দেন। পরে পচেত্তিনো দাবি করেন ওভেন ডাইভ করেছিলেন; সেই বিতর্ক আজও স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

বেকহ্যামের লাল কার্ড (১৯৯৮)

১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম দায়ের একটি লাল কার্ড ম্যাচের রূপটাই পাল্টে দেয়। ম্যাচটি টাইব্রেকারে গিয়ে আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে—ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এটি একটি ব্যথাদায়ক স্মৃতি হয়ে থাকে।

সেমিফাইনাল রেকর্ড ও প্রতীক্ষা

আইতিহাসিকভাবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা শক্তিশালী পারফর্ম করেছে—বিবেচ্য সংখ্যকবার সেমিতে উঠে জয় পেয়েছে সে সম্পর্কে গৌরবময় রেকর্ড জড়িয়ে আছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে উঠার সংখ্যা তুলনামূলক কম; তারা ১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে খেয়েছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠে শিরোপাও জিতেছে; ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে সেমি হারে তারা বিদায় নিয়েছিল।

আজকের ম্যাচ—মাঠে এখানকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইতিহাস, অহংকার এবং জাতিগত আবেগও এ লড়াইতে প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে। হ্যারি কেইন-র নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড বনাম মেসি-নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা—কারা জিতবে, তা নির্ধারণ করবে ফুটবলই। দর্শকরা কেবল এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অপেক্ষাই নয়, বরং দুই দেশের শোক-স্মৃতি ও পুনরুত্থানের নীরব যুদ্ধেরও সাক্ষী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে বসে আছে।