মাঠে ও মাঠের বাইরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সময়টা এই মুহূর্তে মোটেই সুখের নয়। বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর পর্তুগিজ সুপারস্টার ঘোষণা দিয়েছেন এই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের সেই আঘাত পুরোপুরি না মিটতে পারলেও এখনই নতুন দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছেন তিনি — তাঁর বর্তমান ক্লাব আল নাসরকে ঘিরে প্রকাশ হয়েছে তীব্র আর্থিক সংকটের খবর।
সৌদি দৈনিক আল-রিয়াদিয়াহ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটি চলতি সময়কালেই নগদ অর্থ ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। এর ফলস্বরূপ জুন মাসের বেতন বহু মূল দলের কয়েকজন খেলোয়াড় কেবল আংশিকভাবে পেয়েছেন; বাকিটা এখনো বকেয়া। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেলেও আর্থিক স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে এখনও নিশ্চিত কোনো সময়রেখা মেলেনি।
আল নাসর রোনালদোকে দলে নেওয়ার পর থেকে খরচ ও বিনিয়োগে পিছপা হয়নি — আন্তর্জাতিক মানের তারকা কেনা এবং অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবু এত বড় পরিসরের বিনিয়োগের পর কেন হঠাৎ নগদ সংকট দেখা দিয়েছে, তার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
সংকটের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে ক্লাবের দলবদল কার্যক্রমে। নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন খেলোয়াড় কেনা-বেচা ও দরদাম প্রায় বন্ধ আছে। এর প্রভাব পড়েছে দলের কাঠামোয়: ইতোমধ্যে ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রোজোভিচ ক্লাব ছেড়ে গেছেন, যার বিদায়ে মাঝমাঠে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে — কিন্তু অর্থাভাবে এখন বিকল্প খেলোয়াড় আনাকে বাধা রয়েছে।
আল নাসরের সেলারি সমস্যায় সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে রোনালদো—তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ আয়কারীদের মধ্যে একজন এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক প্রায় ২১ কোটি ডলারেরও বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যখন বড় তারকাদের বেতনও সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না, ক্লাবের সামনে শেয়ারহোল্ডার, স্পনসর এবং আর্থিক পরিচালনার দিকে বড় চ্যালেঞ্জ গড়ে উঠছে।
নতুন কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলুকে এখন শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। আগামী মৌসুমে আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগ, কিংস কাপ, সৌদি সুপার কাপ এবং এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট—মোট চারটি বড় প্রতিযোগিতায় লড়তে হবে। এই ঘন সূচি এবং সম্ভাব্য দলগত ঘাটতি মিলিয়ে কোচ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের জন্য কাজটা সহজ হবে না।
ক্লাবভিত্তিক যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সমাধান না হলে দলকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ঘাটতি নিয়েই নামতে হতে পারে। স্পষ্টতই সময় উত্তেজনাপূর্ণ হলেও তা একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা আর চাপও নিয়ে এসেছে—বিশেষত তখন যখন শীর্ষস্থানীয় দলের মতো একটি ক্লাব বৃহৎ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
বর্তমানে আল নাসর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার উৎস নির্ণয় এবং দ্রুত আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরানো নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রকদের তদন্ত, সম্ভাব্য স্পনসর সমন্বয় বা নতুন আর্থিক কৌশল ছাড়া দ্রুত সব সমস্যা মেটানো সহজ হবে না বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন। আগামী সপ্তাহগুলোতে ক্লাব কত দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেবে, সেটাই আগামী মৌসুমে তাদের কার্যকারিতার মান ঠিক করবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























