হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ছয় মাসের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি–জুন) বলা হয়েছে, দেশে এই সময়কালে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব কেলেঙ্কারির মধ্যে ২৩৮ জন শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পরে ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন জানায়, একই ছয় মাসে মোট ১,৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১,০৪২—অর্থাৎ এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে, ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।
যৌতুকবিরোধী নির্যাতনে ১৯ নারী নিহত, ৮ জন আহত এবং ৩ নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। পারিবারিক সহিংসতায় বুধবার পর্যন্ত ৩২০ নারী নিহত, ২১১ জন আহত এবং ১৪৭ জন আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এসিড হামলায় ৪ নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শিশু নির্যাতনের চিত্রও মারাত্মক: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ছয় মাসে ১,০৭৭ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৩০৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৭২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে ২০২৫ সালের সমান সময়ের সংখ্যাটা ছিল ৬৭৩, যেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৩২।
এই সব তথ্য দেশে প্রচারিত ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যম, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলছেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব হামলা, কারাগারে ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন ইত্যাদি গুরুতর সমস্যা সমাধান করা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির পথে যেতে পারে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























