সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পল্লী নিবাসে মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত শোক সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুতর ও ভয়াবহ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জি এম কাদের বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন এখনও পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়নি এবং সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের লক্ষ্য এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা আজও অসম্পূর্ণ রয়েছে, তাই এটি ‘অসমাপ্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ক্রান্তিকালীন এবং বৈষম্যের ছাপ এখনও দেখা যায়। পরিস্থিতি বদলাতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ভবিষ্যতে নতুন করে ব্যাপক গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনার ইঙ্গিত আছে; প্রয়োজন হলে জনগণ আবার রাস্তায় নামবে বলেও তিনি শিক্ষা দিয়েছেন।
জাপা চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে একতরফা নির্বাচন উপহার দিয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ওই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল না এবং আজও বিরোধী মতাশ্রিত ব্যক্তিদের ওপর ‘মব’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতির মাধ্যমে অত্যাচার চালানো হচ্ছে।
তিনি পরিবারের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে; এসব প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে আরও সংগঠিত ও সজাগ থাকতে হবে। দলের সার্বিক শক্তি বাড়িয়ে দেশব্যাপী সংগঠন সুদৃঢ় করার নির্দেশ দিয়েছেন কাদের।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে optimism ব্যক্ত করে তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রত্যাশিত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং পার্টি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শোক সভায় দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাতোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়াত এরশাদের স্মৃতিচারণসহ বিভিন্ন বক্তৃতা করেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























