০১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে আপনারাই মূল ভূমিকায় আছেন, তাই তাদের কোনোভাবেই নিষ্ঠুর বা নির্দয় করে বড় হতে দেয়া যাবে না। প্রাণী-প্রাণিজগত বা মানুষের প্রতি ক্ষতিকর আচরণ যাতে না গড়ে ওঠে, সেজন্য শিক্ষকরা বিশেষভাবে নজর রাখবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ করা হয়, যা অনুষ্ঠানের ধারাকে আরও ধর্মনিরপেক্ষ ও সমন্বিত করে তোলে। প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সভাস্থলটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমি একটি কারখানায় এসেছি—একটি কারখানা যেখানে মানুষ গড়া হচ্ছে এবং সবাই সেই কাজেই নিয়োজিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকরা শিশুদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। পরিবার ও সমাজের মূল্যবোধ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে আপনারাই সবচেয়ে দক্ষ। তিনি স্বীকার করেন যে শিক্ষকদের কিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ আছে এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আরও ভালো প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে শিক্ষার্থীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

শিক্ষা ও পরীক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার উপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি বার্ষিক একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানান—বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর একটি গাছ লাগানো হোক, যাতে গাছ যেমন বড় হয় তেমনি শিশুরাও বড় হতে পারে; গাছ তাদের বন্ধু হবে, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম ও শান্তি মিলবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বক্তব্য দেন। সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার নানা ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ দিনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটির আরও আকর্ষণ ছিল খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, যেখানে তারা ‘মোবাইল: শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়টি পক্ষে-বিপক্ষে উপস্থাপন করে ও প্রমাণ করে।

বিতর্কের পর শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশন শুরু হয়—গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা ঝলকে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর অতিথি সারিতে উপস্থিত থেকে এসব পরিবেশন উপভোগ করার দৃশ্যও রোগপর্যবেক্ষণে ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল স্পষ্ট—শিক্ষকরা যদি সচেতনভাবে নৈতিকতা, সহানুভূতি ও পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষা সম্প্রসারিত করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে আপনারাই মূল ভূমিকায় আছেন, তাই তাদের কোনোভাবেই নিষ্ঠুর বা নির্দয় করে বড় হতে দেয়া যাবে না। প্রাণী-প্রাণিজগত বা মানুষের প্রতি ক্ষতিকর আচরণ যাতে না গড়ে ওঠে, সেজন্য শিক্ষকরা বিশেষভাবে নজর রাখবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ করা হয়, যা অনুষ্ঠানের ধারাকে আরও ধর্মনিরপেক্ষ ও সমন্বিত করে তোলে। প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সভাস্থলটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমি একটি কারখানায় এসেছি—একটি কারখানা যেখানে মানুষ গড়া হচ্ছে এবং সবাই সেই কাজেই নিয়োজিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকরা শিশুদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। পরিবার ও সমাজের মূল্যবোধ শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে আপনারাই সবচেয়ে দক্ষ। তিনি স্বীকার করেন যে শিক্ষকদের কিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ আছে এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আরও ভালো প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে শিক্ষার্থীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

শিক্ষা ও পরীক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার উপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি বার্ষিক একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানান—বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর একটি গাছ লাগানো হোক, যাতে গাছ যেমন বড় হয় তেমনি শিশুরাও বড় হতে পারে; গাছ তাদের বন্ধু হবে, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম ও শান্তি মিলবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বক্তব্য দেন। সূচনা বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার নানা ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ দিনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটির আরও আকর্ষণ ছিল খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, যেখানে তারা ‘মোবাইল: শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়টি পক্ষে-বিপক্ষে উপস্থাপন করে ও প্রমাণ করে।

বিতর্কের পর শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশন শুরু হয়—গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা ঝলকে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর অতিথি সারিতে উপস্থিত থেকে এসব পরিবেশন উপভোগ করার দৃশ্যও রোগপর্যবেক্ষণে ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল স্পষ্ট—শিক্ষকরা যদি সচেতনভাবে নৈতিকতা, সহানুভূতি ও পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষা সম্প্রসারিত করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।