১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির ‘৩০ আসনের’ বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ‘৩০ আসনের’ বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য, ইতিহাস এর সাক্ষী।

শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা শুক্রবার গাজীপুরে বিএনপি মহাসচিবের দেওয়া বক্তব্য ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না’ এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। ২০০৮ সালে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস, বিএনপি ২৯টি আসন পেয়েছিল, ৩০টি পূর্ণ করতে পারেনি। সুতরাং মির্জা ফখরুল সাহেব যে কথাটি বলেছেন, সেটি বিএনপির বেলাতেই প্রযোজ্য।’

‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, আওয়ামী লীগ আবারও ধস নামানো বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ’ বলেন তিনি।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচন হতে দেবে না’ এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা স্বপ্ন দেখতে পারেন, স্বপ্ন দেখতে দোষ  নেই। তবে এই স্বপ্ন তাদের জন্য দু:স্বপ্ন, কারণ এটি কখনো বাস্তবায়িত হবে না।’

আইন অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেমন ভারতে, ইংল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, জাপানে এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়, তখন চলতি সরকার যেমন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র, উজান ঠেলে পাড়ি দেওয়া, স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে চলা। জীবন চলার পথে অনেক প্রিয়জনকে হারাতে হতে পারে, খানিক থমকে গেলেও যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপি বিশেষ বক্তা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট  কাজী আনিস আহমেদ স্বাগত বক্তার বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কেক কাটেন তারা।

এদিকে দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘তোয়াব খানের মৃত্যু এক কিংবদন্তি সাংবাদিকের জীবনাবসান, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাংবাদিকতায় নিয়োজিত থেকেছেন।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে তার ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত ড. হাছান প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া তোয়াব খান মৃত্যুকাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশক ধরে দেশের সাংবাদিকতায় যে অনন্য অবদান রেখেছেন, তা নজিরবিহীন।

তোয়াব খানের জীবনের দিকে তাকিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য অফিসার ও প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত তার ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ অনুষ্ঠান ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা। তিনি চলে গেছেন কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ভুলবে না।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

বিএনপির ‘৩০ আসনের’ বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০১:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ‘৩০ আসনের’ বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য, ইতিহাস এর সাক্ষী।

শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা শুক্রবার গাজীপুরে বিএনপি মহাসচিবের দেওয়া বক্তব্য ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না’ এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। ২০০৮ সালে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস, বিএনপি ২৯টি আসন পেয়েছিল, ৩০টি পূর্ণ করতে পারেনি। সুতরাং মির্জা ফখরুল সাহেব যে কথাটি বলেছেন, সেটি বিএনপির বেলাতেই প্রযোজ্য।’

‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, আওয়ামী লীগ আবারও ধস নামানো বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ’ বলেন তিনি।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচন হতে দেবে না’ এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা স্বপ্ন দেখতে পারেন, স্বপ্ন দেখতে দোষ  নেই। তবে এই স্বপ্ন তাদের জন্য দু:স্বপ্ন, কারণ এটি কখনো বাস্তবায়িত হবে না।’

আইন অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেমন ভারতে, ইংল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, জাপানে এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়, তখন চলতি সরকার যেমন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র, উজান ঠেলে পাড়ি দেওয়া, স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে চলা। জীবন চলার পথে অনেক প্রিয়জনকে হারাতে হতে পারে, খানিক থমকে গেলেও যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপি বিশেষ বক্তা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট  কাজী আনিস আহমেদ স্বাগত বক্তার বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কেক কাটেন তারা।

এদিকে দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘তোয়াব খানের মৃত্যু এক কিংবদন্তি সাংবাদিকের জীবনাবসান, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাংবাদিকতায় নিয়োজিত থেকেছেন।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে তার ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত ড. হাছান প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া তোয়াব খান মৃত্যুকাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশক ধরে দেশের সাংবাদিকতায় যে অনন্য অবদান রেখেছেন, তা নজিরবিহীন।

তোয়াব খানের জীবনের দিকে তাকিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য অফিসার ও প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত তার ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ অনুষ্ঠান ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা। তিনি চলে গেছেন কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ভুলবে না।’