বাংলাদেশে জনগণের বৃহৎ সংখ্যক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্বরূপ। এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন এনে, গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন পথ তৈরি করেছে। বর্তমানে দেশটি একটি গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্যগুলি উপস্থিত সামনের বক্তারা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, যিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা আমাদের নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম সচেতনভাবে এই পরিবর্তনের পাশে থাকুক।
মালয়েসিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, সরকার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেStakeholdersদের সাথে সংলাপে অবিচল থেকে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এই ধরনের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কারগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং বিশ্বে অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ লিটমাস টেস্ট।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অর্থনীতি এখন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবনা-চিন্তার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর এই প্রক্রিয়ারই অংশ, যা মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতির উন্নতি ও আলোচনা দিয়ে স্পষ্ট। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের উপর আরোপ করা শুল্ক অল্প করে আনা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির উন্নতি নির্দেশ করে।
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের ধারাবাহিকতা এত দিন ধরে চললেও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থার অভাবে সেই স্বপ্নগুলো পূরণ হয়নি। এখন আবারো আমরা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছি। ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নতুন এই স্বপ্নের অর্থবহ বার্তা দিয়ে আমাদের আবারও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
নেপালের সাবেক মন্ত্রী ড. দীপক গাওয়ালী জলবায়ু পরিবর্তনের আভাস দিয়ে বলেন, এই পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশে তরুণরাও দেশের জন্য নতুন ভবিষ্যৎ দেখছে। কিন্তু তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। দুই দিনব্যাপী এই বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্সের আয়োজন করেছে ঢাকা ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা)।