০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওয়াকফ আইনের কয়েকটি ধারা স্থগিত করল

ভারতের শীর্ষ আদালত মুসলিমদের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের মূল ধারাগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। তবে পুরো আইনের বাতিলের বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ওই ধারা গুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে সরকার এই ধারা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারে।

গত এপ্রিলে ভারতের পার্লামেন্ট সেটি প্রণীত ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনটির প্রবর্তনের পর থেকেই মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা জানানো হয়। এই আইনে মুসলিমদের দান করা জমি ও সম্পত্তি পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন শঙ্কা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আইনের বিরোধীরা বলতেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার ও ঐতিহ্য লঙ্ঘন করে এবং সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে পারে। অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছিল, এই আইনের মাধ্যমে মুসলিম সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ ও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। ওয়াকফ সম্পত্তি সাধারণত মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান এবং এতিমখানার মতো ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রদান করা হয়, যা ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঐতিহাসিকভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা চলে আসছিল ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের অধীনে। তখন থেকেই রাজ্য ভিত্তিক ওয়াকফ বোর্ড গঠন বাধ্যতামূলক হয়েছে। তবে, চলতি বছর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই আইনে সংশোধনী প্রণয়ন করে কিছু নতুন বিধান যোগ করেছিল, যার ফলে সম্পত্তি নির্ধারণ ও পরিচালনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল, মুসলিম দানকৃত জমির দখল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলে আসছে। এ পরিস্থিতিতে, গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি এজি মাসিহের বেঞ্চ পুরো আইনের বাতিল ছাড়াই কিছু ধারা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে, একটি প্রভিশন যেটি সরকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, সেটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

আদালত আরও জানিয়েছে, সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও দানকৃত সম্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকায় এই সম্পত্তিগুলোর স্বীকৃতি ও ব্যবস্থাপনা বেশ জটিল। বর্তমানে ভারতে অন্তত আরও ৮৭ হাজারের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারের ওপর বিভিন্ন আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে। বেশ কয়েকটি সম্পত্তি দখল হয়ে গেছে বা এর অবস্থা অস্পষ্ট।

নতুন আইনের অধীনে, ওয়াকফ বোর্ডগুলোকে অবশ্যই তাদের সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে দাবি করার জন্য বৈধ নথিপত্র দিতে হবে। বিরোধের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ হয়। আদালত বলেছে, সরকারের এমন ক্ষমতা ভারতীয় সংবিধানের উপর ক্ষতিকারক, কারণ এতে নির্বাহী ও বিচার বিভাগে পৃথকীকরণের নীতি লঙ্ঘিত হয়।

অন্য একটি বিতর্কিত ধারা, যেখানে বলা হয়েছিল, ওয়াকফ দাতাদের কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমান হতে হবে, সেটিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে, ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা হয় রাজ্য-স্তরের বোর্ড এবং কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে। বোর্ডে মুসলিম ডেথাপত্র, আইনপ্রণেতা, ইসলামিক পণ্ডিত এবং রাজ্য সরকারের মনোনীত সদস্য থাকেন। তবে, আদালত অমুসলিম সদস্যের সংখ্যাকে সীমিত রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মুসলিম নির্বাহী নিয়োগের বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ সমালোচনার মাঝে, পার্লামেন্টে এই আইনের পাসের পর থেকেই সরাসরি মামলা চলে আসছিল। এর ফলে, এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি এখন ভারতের প্রধান আদালতের নজরে এসেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওয়াকফ আইনের কয়েকটি ধারা স্থগিত করল

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতের শীর্ষ আদালত মুসলিমদের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের মূল ধারাগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। তবে পুরো আইনের বাতিলের বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ওই ধারা গুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে সরকার এই ধারা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে না পারে।

গত এপ্রিলে ভারতের পার্লামেন্ট সেটি প্রণীত ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনটির প্রবর্তনের পর থেকেই মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা জানানো হয়। এই আইনে মুসলিমদের দান করা জমি ও সম্পত্তি পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন শঙ্কা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আইনের বিরোধীরা বলতেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার ও ঐতিহ্য লঙ্ঘন করে এবং সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে পারে। অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছিল, এই আইনের মাধ্যমে মুসলিম সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ ও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। ওয়াকফ সম্পত্তি সাধারণত মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান এবং এতিমখানার মতো ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রদান করা হয়, যা ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঐতিহাসিকভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা চলে আসছিল ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের অধীনে। তখন থেকেই রাজ্য ভিত্তিক ওয়াকফ বোর্ড গঠন বাধ্যতামূলক হয়েছে। তবে, চলতি বছর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই আইনে সংশোধনী প্রণয়ন করে কিছু নতুন বিধান যোগ করেছিল, যার ফলে সম্পত্তি নির্ধারণ ও পরিচালনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রশ্ন উঠেছিল, মুসলিম দানকৃত জমির দখল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলে আসছে। এ পরিস্থিতিতে, গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি এজি মাসিহের বেঞ্চ পুরো আইনের বাতিল ছাড়াই কিছু ধারা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে, একটি প্রভিশন যেটি সরকারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, সেটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

আদালত আরও জানিয়েছে, সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও দানকৃত সম্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকায় এই সম্পত্তিগুলোর স্বীকৃতি ও ব্যবস্থাপনা বেশ জটিল। বর্তমানে ভারতে অন্তত আরও ৮৭ হাজারের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারের ওপর বিভিন্ন আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে। বেশ কয়েকটি সম্পত্তি দখল হয়ে গেছে বা এর অবস্থা অস্পষ্ট।

নতুন আইনের অধীনে, ওয়াকফ বোর্ডগুলোকে অবশ্যই তাদের সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে দাবি করার জন্য বৈধ নথিপত্র দিতে হবে। বিরোধের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ হয়। আদালত বলেছে, সরকারের এমন ক্ষমতা ভারতীয় সংবিধানের উপর ক্ষতিকারক, কারণ এতে নির্বাহী ও বিচার বিভাগে পৃথকীকরণের নীতি লঙ্ঘিত হয়।

অন্য একটি বিতর্কিত ধারা, যেখানে বলা হয়েছিল, ওয়াকফ দাতাদের কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমান হতে হবে, সেটিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমানে, ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা হয় রাজ্য-স্তরের বোর্ড এবং কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে। বোর্ডে মুসলিম ডেথাপত্র, আইনপ্রণেতা, ইসলামিক পণ্ডিত এবং রাজ্য সরকারের মনোনীত সদস্য থাকেন। তবে, আদালত অমুসলিম সদস্যের সংখ্যাকে সীমিত রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মুসলিম নির্বাহী নিয়োগের বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ সমালোচনার মাঝে, পার্লামেন্টে এই আইনের পাসের পর থেকেই সরাসরি মামলা চলে আসছিল। এর ফলে, এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি এখন ভারতের প্রধান আদালতের নজরে এসেছে।