০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

লিবিয়ার উপকূলে নৌকায় আগুন, কমপক্ষে ৫০ সুদানি শরণার্থী মৃত্যু

লিবিয়ার উপকূলে সুদানি শরণার্থীবাহী একটি নৌকায় গত মঙ্গলবার আগুন লেগে ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন ২৪ জন, যাদের মধ্যে কিছুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নৌকাটিতে মোট ৭৫ জন শরণার্থী ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটির সময় যে নৌকাটি ছিল, সেটি ইউরোপের পথে চলছিল।

আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আবারো ভয়াবহ মানব সংকটের চিত্র দেখিয়েছে। আইওএমের মতে, সমুদ্রপথে মৃত্যু বা নিখোঁজের সংখ্যা গত বছর alone ২ হাজার ৪৫২ জনের বেশি। এই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাজেডির জন্য বেশিরভাগ সময় দায়ি নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অপরাধের সাথে যুক্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ডের অসংগঠিত কার্যক্রম।

২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। তখন থেকে লিবিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপের দিকে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হিসেবে পরিণত হয়। তবে গাদ্দাফির শাসনামলে দেশের স্থিতিশীলতা থাকলেও তাঁর পতনের পর বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সংঘাত ও অস্থিরতা বেড়ে গেছে।

আগস্টে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছাকাছি দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে জুন মাসে লিবিয়া উপকূলে দুটি জাহাজডুবিতে ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন।

অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের রিপোর্টে দেখা যায়, লিবিয়ায় আটক শরণার্থী ও অভিবাসীরা রীতিমতো নির্যাতন, ধর্ষণ ও অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছু সময় কোস্টগার্ডকে সরঞ্জাম ও অর্থ সাহায্য করলেও একুশে অভিযোগ উঠেছে, এই কোস্টগার্ডের অনেক সদস্য অপরাধে জড়িয়ে আছেন।

অবশ্যই, গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধারের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর ফলশ্রুতিতে, যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবাধিকার লংঘনের কারণে অসংখ্য মানুষ লিবিয়ায় আটকা পড়েছেন এবং খুবই অমানবিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এবার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন ভবিষ্যতেও এরকম ভ cairer পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

লিবিয়ার উপকূলে নৌকায় আগুন, কমপক্ষে ৫০ সুদানি শরণার্থী মৃত্যু

প্রকাশিতঃ ১০:৪৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লিবিয়ার উপকূলে সুদানি শরণার্থীবাহী একটি নৌকায় গত মঙ্গলবার আগুন লেগে ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন ২৪ জন, যাদের মধ্যে কিছুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নৌকাটিতে মোট ৭৫ জন শরণার্থী ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটির সময় যে নৌকাটি ছিল, সেটি ইউরোপের পথে চলছিল।

আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আবারো ভয়াবহ মানব সংকটের চিত্র দেখিয়েছে। আইওএমের মতে, সমুদ্রপথে মৃত্যু বা নিখোঁজের সংখ্যা গত বছর alone ২ হাজার ৪৫২ জনের বেশি। এই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাজেডির জন্য বেশিরভাগ সময় দায়ি নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অপরাধের সাথে যুক্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ডের অসংগঠিত কার্যক্রম।

২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। তখন থেকে লিবিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপের দিকে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হিসেবে পরিণত হয়। তবে গাদ্দাফির শাসনামলে দেশের স্থিতিশীলতা থাকলেও তাঁর পতনের পর বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সংঘাত ও অস্থিরতা বেড়ে গেছে।

আগস্টে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছাকাছি দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে জুন মাসে লিবিয়া উপকূলে দুটি জাহাজডুবিতে ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন।

অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের রিপোর্টে দেখা যায়, লিবিয়ায় আটক শরণার্থী ও অভিবাসীরা রীতিমতো নির্যাতন, ধর্ষণ ও অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছু সময় কোস্টগার্ডকে সরঞ্জাম ও অর্থ সাহায্য করলেও একুশে অভিযোগ উঠেছে, এই কোস্টগার্ডের অনেক সদস্য অপরাধে জড়িয়ে আছেন।

অবশ্যই, গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধারের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর ফলশ্রুতিতে, যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবাধিকার লংঘনের কারণে অসংখ্য মানুষ লিবিয়ায় আটকা পড়েছেন এবং খুবই অমানবিক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এবার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন ভবিষ্যতেও এরকম ভ cairer পরিস্থিতি এড়ানো যায়।