০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের ৬ কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

চলতি বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা বিশেষ নাটকীয়। বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের বেশি সময় ধরে কমপক্ষে ৬ কোটি মানুষ (প্রায় ৫৭ মিলিয়ন) তীব্র উত্তাপে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রাল একজন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ অতিরিক্ত গরমের মধ্যে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকিপূর্ণ তাপমাত্রার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রার দিক থেকে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। সেখানে গত গ্রীষ্মে ৫২ দিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ছিল, যার মধ্যে ২৩ দিন ছিল স্বাস্থ্যর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রামে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৯ দিন তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে থাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভব করা যাচ্ছে। খুলনা, রাজশাহী ও গাজীপুরের মতো অন্যান্য বড় শহরেও তাপমাত্রার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

এই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের মানুষসহ পুরো বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের একজন, বা মোট ১৮০ কোটির বেশি মানুষ, তাপপ্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫৫ মিলিয়ন মানুষ ৩০ দিন বা তার বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিশ্বের ১৮৩টি দেশে কমপক্ষে এক মাসের জন্য এ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়া সবচেয়ে বেশি অস্বাভাবিক গরমের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাবে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতির ওপর আরও বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ড. ক্রিস্টিনা ডাহল, ক্লাইমেট সেন্ট্রালের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বলেন, ‘এই রিপোর্ট প্রমাণ করে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখনই দৃশ্যমান। এটি ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি আমাদের দিন দিন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

রিপোর্টে বলা হয়, এই মৌসুমে বিশ্বে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন বা কমপক্ষে ১.৮ বিলিয়ন মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০ দিনের ঝুঁকিপূর্ণ গরমের মুখে পড়েছেন প্রায় ৯৫৫ মিলিয়ন মানুষ। মোট ১৮৩টি দেশের মানুষ কমপক্ষে এক মাসের জন্য এমন তাপমাত্রা অনুভব করেছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিকভাবে দ্বিগুণ সম্ভাবনাময়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের ৬ কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৪৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা বিশেষ নাটকীয়। বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের বেশি সময় ধরে কমপক্ষে ৬ কোটি মানুষ (প্রায় ৫৭ মিলিয়ন) তীব্র উত্তাপে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রাল একজন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ অতিরিক্ত গরমের মধ্যে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকিপূর্ণ তাপমাত্রার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রার দিক থেকে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। সেখানে গত গ্রীষ্মে ৫২ দিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ছিল, যার মধ্যে ২৩ দিন ছিল স্বাস্থ্যর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রামে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৯ দিন তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে থাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভব করা যাচ্ছে। খুলনা, রাজশাহী ও গাজীপুরের মতো অন্যান্য বড় শহরেও তাপমাত্রার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

এই গ্রীষ্মে বাংলাদেশের মানুষসহ পুরো বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের একজন, বা মোট ১৮০ কোটির বেশি মানুষ, তাপপ্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫৫ মিলিয়ন মানুষ ৩০ দিন বা তার বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিশ্বের ১৮৩টি দেশে কমপক্ষে এক মাসের জন্য এ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়া সবচেয়ে বেশি অস্বাভাবিক গরমের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাবে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতির ওপর আরও বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ড. ক্রিস্টিনা ডাহল, ক্লাইমেট সেন্ট্রালের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বলেন, ‘এই রিপোর্ট প্রমাণ করে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখনই দৃশ্যমান। এটি ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি আমাদের দিন দিন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

রিপোর্টে বলা হয়, এই মৌসুমে বিশ্বে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন বা কমপক্ষে ১.৮ বিলিয়ন মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০ দিনের ঝুঁকিপূর্ণ গরমের মুখে পড়েছেন প্রায় ৯৫৫ মিলিয়ন মানুষ। মোট ১৮৩টি দেশের মানুষ কমপক্ষে এক মাসের জন্য এমন তাপমাত্রা অনুভব করেছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিকভাবে দ্বিগুণ সম্ভাবনাময়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।