১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শেষ যাত্রায় সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত

শেষযাত্রায় সহকর্মীদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে যান লেখক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তার জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভিড় করেন অসংখ্য শিক্ষক, ছাত্র, সরকারী উপদেষ্টা, লেখক, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সবাই তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে শহিদ মিনারে প্রথমে তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানে ফুল দিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান একুশে বিজ্ঞান ও সাহিত্য ব্যক্তিত্বেরা। তার সহকর্মীরা তাকে নির্লোভ, সৎ ও বিনয়ী একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছেন। তারা বলেন, তিনি সকল মতামতকে সম্মান করেছেন এবং নতুন লেখকদের উৎসাহিত করেছেন। তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “তিনি ছিলেন অসম্ভব জ্ঞানী, বিনয়ী ও নির্লোভ মানুষ। তিনি সব সময় অন্যের মতামতকে মূল্য দিয়েছেন এবং নতুন লেখকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।” বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ সময় বলেন, “তিনি ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। তার ব্যক্তিত্বের স্পষ্টতা ছিল, তবে তিনি ভিন্ন মতকে অবজ্ঞা করেননি। আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতির জন্য তিনি এক বিশিষ্ট শিক্ষককে হারালাম।” জাতির অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্ব সচেতন এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইমিরেটাসের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, “সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চিত্রকলা, নান্দনিকতা ও ইংরেজি সাহিত্যচর্চায় পারদর্শী ছিলেন। তার নাট্যচর্চাও ছিল নিয়মিত। তিনি সদা আড়ম্বরহীন কর্মে নিবদ্ধ থাকতেন এবং তার কাজগুলো আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।’’ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কাফী রতন, বাসদ, ভাষাসংগ্রামী ও সংগীতশিক্ষক মো. হেলাল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি, সাহিত্যিক মাজহারুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি মোহন রায়হান, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ফোরাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাবির ইংরেজি বিভাগের ১৯৯৩ ব্যাচের সদস্য রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ, কবি দিলারা হাফিজ, তুষার দাস ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংস্থা। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীরা। পরে তার মরদেহ শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেয়া হয়, যেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার প্রতি গভীর সান্নিধ্য ও শ্রদ্ধার সমাগমে শেষযাত্রা সম্পন্ন হয়, যা তার জীবনের মূল্য ও প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শেষ যাত্রায় সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৪৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

শেষযাত্রায় সহকর্মীদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে যান লেখক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তার জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভিড় করেন অসংখ্য শিক্ষক, ছাত্র, সরকারী উপদেষ্টা, লেখক, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব। বৃষ্টি উপেক্ষা করে সবাই তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে শহিদ মিনারে প্রথমে তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানে ফুল দিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান একুশে বিজ্ঞান ও সাহিত্য ব্যক্তিত্বেরা। তার সহকর্মীরা তাকে নির্লোভ, সৎ ও বিনয়ী একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছেন। তারা বলেন, তিনি সকল মতামতকে সম্মান করেছেন এবং নতুন লেখকদের উৎসাহিত করেছেন। তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “তিনি ছিলেন অসম্ভব জ্ঞানী, বিনয়ী ও নির্লোভ মানুষ। তিনি সব সময় অন্যের মতামতকে মূল্য দিয়েছেন এবং নতুন লেখকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।” বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ সময় বলেন, “তিনি ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। তার ব্যক্তিত্বের স্পষ্টতা ছিল, তবে তিনি ভিন্ন মতকে অবজ্ঞা করেননি। আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতির জন্য তিনি এক বিশিষ্ট শিক্ষককে হারালাম।” জাতির অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্ব সচেতন এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইমিরেটাসের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, “সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চিত্রকলা, নান্দনিকতা ও ইংরেজি সাহিত্যচর্চায় পারদর্শী ছিলেন। তার নাট্যচর্চাও ছিল নিয়মিত। তিনি সদা আড়ম্বরহীন কর্মে নিবদ্ধ থাকতেন এবং তার কাজগুলো আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।’’ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কাফী রতন, বাসদ, ভাষাসংগ্রামী ও সংগীতশিক্ষক মো. হেলাল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি, সাহিত্যিক মাজহারুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি মোহন রায়হান, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান ফোরাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাবির ইংরেজি বিভাগের ১৯৯৩ ব্যাচের সদস্য রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ, কবি দিলারা হাফিজ, তুষার দাস ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংস্থা। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীরা। পরে তার মরদেহ শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেয়া হয়, যেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার প্রতি গভীর সান্নিধ্য ও শ্রদ্ধার সমাগমে শেষযাত্রা সম্পন্ন হয়, যা তার জীবনের মূল্য ও প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।