১১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

সেন্টমার্টিন থেকে ১৮৫০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলঘেঁষা দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বীপের অলিগলি, সৈকত ও জনসমাগমের স্থান থেকে প্রায় ১৮৫০ কেজি অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বর্জ্য নৌপথে করে পরে নিরাপদে টেকনাফে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে অপসারণ করা হয়।

অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা—মোট পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সহযোগিতা প্রদান করেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

কর্মসূচির সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সেন্ট মার্টিন ছোট একটি দ্বীপ। এখানে প্রতিদিন জমতে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে না যাওয়া হয়, তবে তা এক সময় সমুদ্রের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই ক্ষতির পরিমাণ কমানো।”

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি আরও বলেছেন, পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় এই দ্বীপে সারা বছর পর্যটক প্রবেশের সুযোগ থাকা উচিত, তবে সংখ্যা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এতে পরিবেশের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং দ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষা পাবে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছৈয়দ আলম কেওক্রাডং বাংলাদেশ-এর এই দীর্ঘকালীন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে তারা দ্বীপের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় কাজ করে আসছেন। স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এই ক্ষতি কমাতে পারব।”

অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের বিশাল সংখ্যায় আসার ফলে সেই সঙ্গে দেখা দেয় বর্জ্য সমস্যা। প্রতিটি পর্যটক যদি সচেতন হন এবং পরিষ্কার-পরিছন্নতার দিকটি মানেন, তবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করা সহজ হবে। এই উদ্যোগ নিয়মিত ভাবেই চালানো প্রয়োজন।”

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজকরা জানিয়ে বলেন, এর আগে তারা বিভিন্ন সময় দ্বীপের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও তারা পরিবেশ রক্ষা ও দ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ভালুকায় পরিবেশদূষণে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ কারখানার ড্রেন লাইন বন্ধ

সেন্টমার্টিন থেকে ১৮৫০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলঘেঁষা দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বীপের অলিগলি, সৈকত ও জনসমাগমের স্থান থেকে প্রায় ১৮৫০ কেজি অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বর্জ্য নৌপথে করে পরে নিরাপদে টেকনাফে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে অপসারণ করা হয়।

অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা—মোট পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সহযোগিতা প্রদান করেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

কর্মসূচির সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সেন্ট মার্টিন ছোট একটি দ্বীপ। এখানে প্রতিদিন জমতে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে না যাওয়া হয়, তবে তা এক সময় সমুদ্রের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই ক্ষতির পরিমাণ কমানো।”

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি আরও বলেছেন, পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় এই দ্বীপে সারা বছর পর্যটক প্রবেশের সুযোগ থাকা উচিত, তবে সংখ্যা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এতে পরিবেশের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং দ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষা পাবে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছৈয়দ আলম কেওক্রাডং বাংলাদেশ-এর এই দীর্ঘকালীন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে তারা দ্বীপের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় কাজ করে আসছেন। স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এই ক্ষতি কমাতে পারব।”

অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “পর্যটকদের বিশাল সংখ্যায় আসার ফলে সেই সঙ্গে দেখা দেয় বর্জ্য সমস্যা। প্রতিটি পর্যটক যদি সচেতন হন এবং পরিষ্কার-পরিছন্নতার দিকটি মানেন, তবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করা সহজ হবে। এই উদ্যোগ নিয়মিত ভাবেই চালানো প্রয়োজন।”

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজকরা জানিয়ে বলেন, এর আগে তারা বিভিন্ন সময় দ্বীপের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও তারা পরিবেশ রক্ষা ও দ্বীপের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।