০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী র‍্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’ মুক্তি পেল

দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে নতুন প্রতিবাদী র‍্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’। এই গানটি গতকাল একযোগে অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই, ইউটিউব মিউজিক এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এর কথায় ও সুরে সমাজের গভীর অসঙ্গতিগুলো উন্মোচিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

গানটির স্তবকে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে। যেখানে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব—এসবের দৃঢ় প্রতিরূপ দেখা যায়। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অসুবিধা ও বঞ্চনার চিত্রও বেশ নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূল স্লোগান বা ফেরি হয়ে ওঠা পংক্তি ‘পরিবর্তন চাই পরিবর্তন, দেশটা চলবে না আগের মতো’—একটি অঙ্গীকার, যা কেবল প্রতিবাদই নয়, বরং সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠার আহ্বানও দেয়।

গানের লিরিকে সাহসিকতার সাথে কঠিন প্রশ্ন আনা হয়েছে। রাজনীতিবিদদের আয়ের উৎস, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক, দেশে চলমান মিথ্যা মামলা সংস্কৃতি, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবহেলা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে নাম করে উল্লেখ না করে পুরো সিস্টেম বা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এই নিরপেক্ষ অবস্থানই গানটিকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

অডিওর পাশাপাশি এর ভিজ্যুয়াল ও পোস্টারে প্রয়োগ করা হয়েছে শক্তিশালী প্রতীকী ভাষা। একটি চলন্ত স্কুটারে বিপরীতমুখী দুই চরিত্রের চিত্রায়ন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, একই দেশের বাসিন্দা হয়েও ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাসকারী মানুষের ছবি। রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও প্রতিবাদী হিপ-হপ ধারায় এই গানটি অনেকের কাছে সময়োপযোগী একটি সংযোজন বলে মনে হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং শেয়ারও করা হচ্ছে।

র‍্যাপার নোমান এই গানের লক্ষ্য ও ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই গান কারো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং মানুষের সচেতনতা ও প্রশ্ন করার প্রেরণা দেওয়ার জন্য। ভোট দেওয়ার আগে, কাউকে বিশ্বাস করার আগে বা নেতা নির্বাচন করার সময় অন্তত একবার ভাবার প্রয়োজন—এটাই মূল উদ্দেশ্য। গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন এ বি এম নোমান আজাদ, মিউজিক কম্পোজ করেছেন আমির হামজা খান, আর চিত্রনাট্য ও পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল মুহাম্মদ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী র‍্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’ মুক্তি পেল

প্রকাশিতঃ ০৬:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে নতুন প্রতিবাদী র‍্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’। এই গানটি গতকাল একযোগে অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই, ইউটিউব মিউজিক এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এর কথায় ও সুরে সমাজের গভীর অসঙ্গতিগুলো উন্মোচিত হয়েছে, যা শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

গানটির স্তবকে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে। যেখানে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব—এসবের দৃঢ় প্রতিরূপ দেখা যায়। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অসুবিধা ও বঞ্চনার চিত্রও বেশ নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূল স্লোগান বা ফেরি হয়ে ওঠা পংক্তি ‘পরিবর্তন চাই পরিবর্তন, দেশটা চলবে না আগের মতো’—একটি অঙ্গীকার, যা কেবল প্রতিবাদই নয়, বরং সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠার আহ্বানও দেয়।

গানের লিরিকে সাহসিকতার সাথে কঠিন প্রশ্ন আনা হয়েছে। রাজনীতিবিদদের আয়ের উৎস, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক, দেশে চলমান মিথ্যা মামলা সংস্কৃতি, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবহেলা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে নাম করে উল্লেখ না করে পুরো সিস্টেম বা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এই নিরপেক্ষ অবস্থানই গানটিকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

অডিওর পাশাপাশি এর ভিজ্যুয়াল ও পোস্টারে প্রয়োগ করা হয়েছে শক্তিশালী প্রতীকী ভাষা। একটি চলন্ত স্কুটারে বিপরীতমুখী দুই চরিত্রের চিত্রায়ন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, একই দেশের বাসিন্দা হয়েও ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাসকারী মানুষের ছবি। রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও প্রতিবাদী হিপ-হপ ধারায় এই গানটি অনেকের কাছে সময়োপযোগী একটি সংযোজন বলে মনে হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং শেয়ারও করা হচ্ছে।

র‍্যাপার নোমান এই গানের লক্ষ্য ও ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই গান কারো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং মানুষের সচেতনতা ও প্রশ্ন করার প্রেরণা দেওয়ার জন্য। ভোট দেওয়ার আগে, কাউকে বিশ্বাস করার আগে বা নেতা নির্বাচন করার সময় অন্তত একবার ভাবার প্রয়োজন—এটাই মূল উদ্দেশ্য। গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন এ বি এম নোমান আজাদ, মিউজিক কম্পোজ করেছেন আমির হামজা খান, আর চিত্রনাট্য ও পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল মুহাম্মদ।