০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দৌলতদিয়ায় নিখোঁজ রেজাউলের খোঁজে ৪ দিনেও কোনো সূত্র 찾েনি পুলিশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন যুবক রেজাউল শিকদার (৩৫)। এখনো পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি, চার দিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। রেজাউল দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ থানায় চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির একটি যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ওই যাত্রী তাকে ধরে ফেললে, ধস্তাধস্তির সময় দুজনই নদীতে পড়ে যান। যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠলেও রেজাউল পানিতে ডুবে যায়।

রেজাউলের পরিবারের দাবি, তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা ও ইউনুস খার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে, তারা পরিকল্পনা করে রেজাউলকে ফেরির পন্টুন থেকে পানিতে ফেলে দিয়ে তার মাথায় ইটের আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। তাঁরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন।

অপরদিকে, আনু খা ও ছোট ভাই ফারুক খা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এলাকায় সুনাম ছড়ানো ব্যবসায়ী, অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী, ছিনতাইকারী এবং ফেরিতে ছিনতাই ও জুয়ার চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রেজাউল মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়—তবে নেশাগ্রস্ত থাকার কারণে উপরে উঠতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, রেজাউলকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি, কারণ তার নেশার জন্য তারা জানত। তাদের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের মামলা ছিলো বলে জানান। কিছুদিন আগেও, তারা পুলিশে অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগ করেছে। এসবের সঙ্গে এই ঘটনা জড়িত নয় বলে তারা দাবি করছেন।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসের সাথে পুলিশও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, রেজাউলের বিরুদ্ধে চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে। এ্যালাও জানানো হয়, ধস্তাধস্তির সময় নদীতে পড়ে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ জানাতে কাজ করছে পুলিশ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

দৌলতদিয়ায় নিখোঁজ রেজাউলের খোঁজে ৪ দিনেও কোনো সূত্র 찾েনি পুলিশ

প্রকাশিতঃ ১২:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন যুবক রেজাউল শিকদার (৩৫)। এখনো পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি, চার দিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। রেজাউল দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ থানায় চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির একটি যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ওই যাত্রী তাকে ধরে ফেললে, ধস্তাধস্তির সময় দুজনই নদীতে পড়ে যান। যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠলেও রেজাউল পানিতে ডুবে যায়।

রেজাউলের পরিবারের দাবি, তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা ও ইউনুস খার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে, তারা পরিকল্পনা করে রেজাউলকে ফেরির পন্টুন থেকে পানিতে ফেলে দিয়ে তার মাথায় ইটের আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। তাঁরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেছেন।

অপরদিকে, আনু খা ও ছোট ভাই ফারুক খা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এলাকায় সুনাম ছড়ানো ব্যবসায়ী, অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী, ছিনতাইকারী এবং ফেরিতে ছিনতাই ও জুয়ার চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রেজাউল মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর সময় পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়—তবে নেশাগ্রস্ত থাকার কারণে উপরে উঠতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, রেজাউলকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি, কারণ তার নেশার জন্য তারা জানত। তাদের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের মামলা ছিলো বলে জানান। কিছুদিন আগেও, তারা পুলিশে অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগ করেছে। এসবের সঙ্গে এই ঘটনা জড়িত নয় বলে তারা দাবি করছেন।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসের সাথে পুলিশও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, রেজাউলের বিরুদ্ধে চারটি মাদক, দুইটি ছিনতাই এবং একটি জুয়ার মামলা রয়েছে। এ্যালাও জানানো হয়, ধস্তাধস্তির সময় নদীতে পড়ে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত কারণ জানাতে কাজ করছে পুলিশ।