ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর দেশের শেয়ারবাজারে আজ রবিবার প্রথম কার্যদিবসে তীব্র উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এককদিনে ৪ শতাংশ বা ২০১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পাঁচ মাস পর দৈনিক লেনদেন আবারও এক হাজার কোটি টাকার ঘর ছুঁয়েছে।
বাজারের পরিস্থিতি বিশ্লেষলে দেখা যায় দাম বাড়ার অংশগ্রহণ ব্যাপক হয়েছে—৩৬৪টি শেয়ার বা ইউনিটের দাম বাড়েছে, যেখানে মাত্র ২৬টির দাম কমেছে; অর্থাৎ দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল কমদামের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বেশি। ডিএসই-৩০ সূচকও চার শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনে আজ মোট ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ; এর আগের এইমাত্র তুলনীয় লেনদেন হয়েছিল গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর। আজকের লেনদেনে শীর্ষে ছিলেন সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের থেকে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আভাস ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়েছে। নির্বাচনের পর সরকারের নীতিগত প্রতিশ্রুতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক দিয়েছেন যে এই উত্থান স্থায়ী হবে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উচ্চ সুদ হার অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে অস্থায়ী উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা পরবর্তীতে স্থিতিশীল হয়ে গিয়েছিল—তার মতোই গতিবিধি এ বারও অস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এজন্য সুদের হার সমন্বয়, বাজারে ভাল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং কার্যকর শাসনবিধি নিশ্চিতকরণকে জরুরি হিসেবে 강조 করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সব সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সিএএসপিআই সূচক ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে closed করেছে। সেখানে অংশ নেওয়া ২২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়েছে এবং লেনদেনও প্রায় ২৫ কোটি টাকার আশপাশে ছিল, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দিনশেষে বলা যায়, নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারের এই চঞ্চলতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন—একে দীর্ঘমেয়াদি করে তুলতে প্রয়োজন শুচ্ছ শাসন, সুদ নীতির সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























