১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট ছুঁলেন রশিদ খান

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার ও আফগান অধিনায়ক রশিদ খান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে রশিদ ইতিহাস রচনা করে এই ফরম্যাটে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট পূর্ণ করেছেন।

ম্যাচ শুরুর আগে রশিদের উইকেট সংখ্যা ছিল ৬৯৯। নিজের প্রথম স্পেলে উইকেট না পেলেও ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেটটি পান—আরব আমিরাতের ব্যাটার মোহাম্মদ আরফানকে হিট উইকেট করে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচগুলোয় তিনি ক্রমান্বয়ে ৬৯৮ ও ৬৯৯তম উইকেট শিকার করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক ৭০০ নম্বর উইকেটে পৌঁছে দেয়।

২০০৩ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সূচনা হওয়ার পর এই ফরম্যাটে এতবড় উইকেট সংখ্যা কেউ অতিক্রম করতে পারেননি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় রশিদ অনেক দিন ধরেই শীর্ষে রয়েছেন। অবসর নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ডোয়াইন ব্রাভো থাকেন দ্বিতীয় স্থানে, ৬৩১ উইকেট নিয়ে। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সুনীল নারিন ৬১৩ উইকেট নিয়ে রশিদের পেছনে আছে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও রশিদের দাপট চোখে পড়ে—এখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৯১। নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি ও ইশ সোধি যথাক্রমে ১৬৪ ও ১৬২ উইকেট নিয়ে তার পেছনে রয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান রশিদের আধুনিক ক্রিকেটে একক আধিপত্যেরই প্রতিফলন।

ব্যক্তিগত যে গুণগুলো রশিদকে আলাদা করে তোলে—সংযত তৈরি, নির্ভুল কন্ট্রোল এবং ম্যাচ সচেতনতা—তাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রশিদ বলেন, ৭০০ উইকেট নিঃসন্দেহে বড় অর্জন, তবু তিনি সংখ্যার পিছনে না পড়ে দলকে সর্বোচ্চ দিতে চেষ্টা করেন। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলেই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকে সঠিক কাজে লাগানো এবং দলের জন্য উইকেট পাওয়া।

রশিদ নিজে সততা ও নম্রতায় ভরা; তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই জয়যাত্রা এখানেই থেমে থাকবে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ফর্ম ও নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট-ফরম্যাটের কারণে ভবিষ্যতে রশিদ এই রেকর্ডকে আরও অনেক অনেক ওপরে নিয়ে যাবেন—একটি এমন স্তরে যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভাঙা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

রশিদ খানের এই বিশ্বরেকর্ড কেবল আফগান ক্রিকেটকে নয়, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটকে গর্বিত করবে। তার এই কীর্তি ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং অনেকদিন ধরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট ছুঁলেন রশিদ খান

প্রকাশিতঃ ০৮:২১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার ও আফগান অধিনায়ক রশিদ খান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে রশিদ ইতিহাস রচনা করে এই ফরম্যাটে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট পূর্ণ করেছেন।

ম্যাচ শুরুর আগে রশিদের উইকেট সংখ্যা ছিল ৬৯৯। নিজের প্রথম স্পেলে উইকেট না পেলেও ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেটটি পান—আরব আমিরাতের ব্যাটার মোহাম্মদ আরফানকে হিট উইকেট করে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচগুলোয় তিনি ক্রমান্বয়ে ৬৯৮ ও ৬৯৯তম উইকেট শিকার করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই ঐতিহাসিক ৭০০ নম্বর উইকেটে পৌঁছে দেয়।

২০০৩ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সূচনা হওয়ার পর এই ফরম্যাটে এতবড় উইকেট সংখ্যা কেউ অতিক্রম করতে পারেননি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় রশিদ অনেক দিন ধরেই শীর্ষে রয়েছেন। অবসর নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ডোয়াইন ব্রাভো থাকেন দ্বিতীয় স্থানে, ৬৩১ উইকেট নিয়ে। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সুনীল নারিন ৬১৩ উইকেট নিয়ে রশিদের পেছনে আছে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও রশিদের দাপট চোখে পড়ে—এখানে তার উইকেট সংখ্যা ১৯১। নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি ও ইশ সোধি যথাক্রমে ১৬৪ ও ১৬২ উইকেট নিয়ে তার পেছনে রয়েছেন। এসব পরিসংখ্যান রশিদের আধুনিক ক্রিকেটে একক আধিপত্যেরই প্রতিফলন।

ব্যক্তিগত যে গুণগুলো রশিদকে আলাদা করে তোলে—সংযত তৈরি, নির্ভুল কন্ট্রোল এবং ম্যাচ সচেতনতা—তাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রশিদ বলেন, ৭০০ উইকেট নিঃসন্দেহে বড় অর্জন, তবু তিনি সংখ্যার পিছনে না পড়ে দলকে সর্বোচ্চ দিতে চেষ্টা করেন। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলেই তার একমাত্র লক্ষ্য থাকে সঠিক কাজে লাগানো এবং দলের জন্য উইকেট পাওয়া।

রশিদ নিজে সততা ও নম্রতায় ভরা; তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই জয়যাত্রা এখানেই থেমে থাকবে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ফর্ম ও নিয়ন্ত্রিত ফ্লাইট-ফরম্যাটের কারণে ভবিষ্যতে রশিদ এই রেকর্ডকে আরও অনেক অনেক ওপরে নিয়ে যাবেন—একটি এমন স্তরে যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভাঙা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

রশিদ খানের এই বিশ্বরেকর্ড কেবল আফগান ক্রিকেটকে নয়, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটকে গর্বিত করবে। তার এই কীর্তি ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং অনেকদিন ধরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।