০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

টি-টোয়েন্টিতে ভুল হলেই ফের ওঠা কঠিন: রশিদ খান

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আলোচনায় না থেকে অল্পমেয়াদে বিদায় নেয়। ‘গ্রুপ অব ডেথ’–এ পড়ায় শুরু থেকেই তাদের পথ কঠিন ছিল এবং নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয় বিশ্বকাপ যাত্রাকে ত্বরান্বিতভাবে শেষ করে দিল।

প্রথম দুই ম্যাচ হারের ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো আফগান পরিচিত শিবিরের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে শেষে হার মেনে নেওয়া তাদের জন্য ছিল এক বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

এই অচিরাচরিত বিদায়ের পর অধিনায়ক রশিদ খান আক্ষেপ ব্যক্ত করে বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবেশ এমন যে এখানে ভুলের কোনো ছাড় নেই। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামান্য ত্রুটিও ম্যাচের আজকের বাঁক ঘোরিয়ে দিতে পারে, এবং একবার পথ হারালে তা সহজে ফেরানো যায় না। তিনি যোগ করেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দু’টি জায়ান্টের বিরুদ্ধে নামা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সূচি, সঙ্কীর্ণ সময় এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে।

রশিদ সতীর্থদের পাশাপাশি নিজেরাও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হয়ে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন ক্ষত থেকে ফিরে আসতে হলে কড়া কাজ, পরিকল্পনা ও তরুণদের ওপর বেশি নজর দিতে হবে।

অফ-ফিল্ডও বড় পরিবর্তন ঘটেছে — দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রটের অধীনে আফগানিস্তানের উত্থান নজরকাড়া ছিল; কেবল কৌশলগতভাবে নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা গঠনে তাঁরও বড় ভূমিকা ছিল। রশিদ বলেন, ট্রটের চলে যাওয়া আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে এবং তা পূরণ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হবে।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে—নেতৃত্বের পরীক্ষা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ও তরুণদের গড়ার দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সামনে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

আফগান দলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: নেতৃত্বে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বড় মঞ্চে তাদের বাস্তব সামর্থ্য আবার প্রমান করা। আপাতত এই অকাল বিদায়কে তারা এক বড় শিক্ষা হিসেবে নেবে এবং ভবিষ্যতে ফিরতে আরও শক্ত সঙ্কল্প নিয়ে মাঠে নামবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

টি-টোয়েন্টিতে ভুল হলেই ফের ওঠা কঠিন: রশিদ খান

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আলোচনায় না থেকে অল্পমেয়াদে বিদায় নেয়। ‘গ্রুপ অব ডেথ’–এ পড়ায় শুরু থেকেই তাদের পথ কঠিন ছিল এবং নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয় বিশ্বকাপ যাত্রাকে ত্বরান্বিতভাবে শেষ করে দিল।

প্রথম দুই ম্যাচ হারের ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো আফগান পরিচিত শিবিরের জন্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে শেষে হার মেনে নেওয়া তাদের জন্য ছিল এক বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

এই অচিরাচরিত বিদায়ের পর অধিনায়ক রশিদ খান আক্ষেপ ব্যক্ত করে বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবেশ এমন যে এখানে ভুলের কোনো ছাড় নেই। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামান্য ত্রুটিও ম্যাচের আজকের বাঁক ঘোরিয়ে দিতে পারে, এবং একবার পথ হারালে তা সহজে ফেরানো যায় না। তিনি যোগ করেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দু’টি জায়ান্টের বিরুদ্ধে নামা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে বিরাট চাপ হয়ে দাঁড়ায়। সূচি, সঙ্কীর্ণ সময় এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে।

রশিদ সতীর্থদের পাশাপাশি নিজেরাও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ় হয়ে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন ক্ষত থেকে ফিরে আসতে হলে কড়া কাজ, পরিকল্পনা ও তরুণদের ওপর বেশি নজর দিতে হবে।

অফ-ফিল্ডও বড় পরিবর্তন ঘটেছে — দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রটের অধীনে আফগানিস্তানের উত্থান নজরকাড়া ছিল; কেবল কৌশলগতভাবে নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা গঠনে তাঁরও বড় ভূমিকা ছিল। রশিদ বলেন, ট্রটের চলে যাওয়া আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে এবং তা পূরণ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হবে।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে—নেতৃত্বের পরীক্ষা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ও তরুণদের গড়ার দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। সামনে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

আফগান দলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট: নেতৃত্বে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বড় মঞ্চে তাদের বাস্তব সামর্থ্য আবার প্রমান করা। আপাতত এই অকাল বিদায়কে তারা এক বড় শিক্ষা হিসেবে নেবে এবং ভবিষ্যতে ফিরতে আরও শক্ত সঙ্কল্প নিয়ে মাঠে নামবে।