০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র উৎসব

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় গণপ্রদর্শনী হিসেবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং গণযোগাযোগ অধিদফতরের সহযোগিতায় চলছে এই অনুষ্ঠান।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয়েছে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)। পরিবারের ভেতরের দমন-পীড়নের গল্পকে রূপকভাবে ব্যবহার করে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তান শাসনের নির্মমতা ও জনগণের জাগরণ ফুটিয়ে তোলা এই ছবিকে বাংলা সিনেমায় রাজনৈতিক রূপকের গুরুত্বপূর্ণ দাগ হিসেবে দেখা হয়। নির্মাতা এখানে ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা এবং মানুষের প্রতিবাদের তীক্ষ্ণতাকে তুলে আনেন। ছবিটির আবহ জয় করে রাখা এক গানের কথাও উল্লেখযোগ্য—আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ভাষা আন্দোলনের আবেগ ও উপলব্ধিকে আরও শক্ত করেছিল।

শুটিং চলাকালীন জহির রায়হানকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হলেও পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবিতে রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ বাংলাদেশের সার্বিকভাবে প্রসিদ্ধ শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে, শনিবার, দেখানো হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’ (১৯৮১)। এ ছবিটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে তুলে ধরে পারিবারিক কাহিনীর আকারে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখানো হয়েছে। এতে কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন।

আয়োজকরা মনে করেন, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাজ এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসনির্ভর এসব চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও মূল্যবোধকে নতুন করে তুলে আনা এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানে একটি উজ্জ্বল ও আবেগমাখা পরিবেশ তৈরি করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র উৎসব

প্রকাশিতঃ ১১:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় গণপ্রদর্শনী হিসেবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং গণযোগাযোগ অধিদফতরের সহযোগিতায় চলছে এই অনুষ্ঠান।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয়েছে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)। পরিবারের ভেতরের দমন-পীড়নের গল্পকে রূপকভাবে ব্যবহার করে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তান শাসনের নির্মমতা ও জনগণের জাগরণ ফুটিয়ে তোলা এই ছবিকে বাংলা সিনেমায় রাজনৈতিক রূপকের গুরুত্বপূর্ণ দাগ হিসেবে দেখা হয়। নির্মাতা এখানে ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা এবং মানুষের প্রতিবাদের তীক্ষ্ণতাকে তুলে আনেন। ছবিটির আবহ জয় করে রাখা এক গানের কথাও উল্লেখযোগ্য—আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ভাষা আন্দোলনের আবেগ ও উপলব্ধিকে আরও শক্ত করেছিল।

শুটিং চলাকালীন জহির রায়হানকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হলেও পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবিতে রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ বাংলাদেশের সার্বিকভাবে প্রসিদ্ধ শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে, শনিবার, দেখানো হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’ (১৯৮১)। এ ছবিটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে তুলে ধরে পারিবারিক কাহিনীর আকারে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখানো হয়েছে। এতে কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন।

আয়োজকরা মনে করেন, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাজ এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসনির্ভর এসব চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও মূল্যবোধকে নতুন করে তুলে আনা এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানে একটি উজ্জ্বল ও আবেগমাখা পরিবেশ তৈরি করেছে।