১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

এমসিসিআই: অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস, ঝুঁকি এখনও বহাল

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) বলছে, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পরিচয় মিললেও পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর। গত সোমবার প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে চেম্বারটি সতর্ক করে জানায় যে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং স্থায়ী মূল্যস্ফীতি নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ থেকেই গেছে।

সংস্থাটি মনে করিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সতর্ক নীতিপ্রয়োগ চালিয়ে যেতে হবে। এই মূল্যায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

চেম্বারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধান সামষ্টিক সূচকে ধীরগতির সত্ত্বেও ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ স্পষ্ট। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার ও বণিক সম্পর্কিত ব্যয়ের কারণে বিস্তৃত বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘসময় ধরে বিরাজ করতে পারে।

গত নয় মাসের প্রবণতা বিশ্লেষণে সংস্থাটি মনে করছে যে তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানিচলান ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে। তারা অনুমান করছে, জানুয়ারির প্রায় ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে মার্চে রপ্তানি আয় প্রায় ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৈদেশিক চাহিদা কিছুটা বাড়া ও চালান বৃদ্ধিই এই উন্নতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে আমদানিও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে সম্ভাব্য আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে তা প্রায় ৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে ওঠার কথা বলা হয়েছে। শিল্প কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ চাহিদি বাড়লেও রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে চেম্বারটি ধারনা করছে। জানুয়ারিতে সামান্য কমার পর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রবাসী আয় বাড়ার আশা করা হচ্ছে; মার্চে রেমিট্যান্স প্রায় ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে—যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জানুয়ারির ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে প্রায় ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠার সম্ভাবনা আছে। বৃদ্ধি সীমিত হলেও এটি বহিঃখাতে ধীরগতির উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কাটেনি। চেম্বারের ধারণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং মার্চে সামান্য কমে প্রায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হতে পারে—অর্থাৎ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও কিছুটা শিথিলতার আভাস দেখা যাচ্ছে।

সংস্থাটি আশাবাদী যে সঠিক নীতি সমন্বয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ ও আমদানি–রপ্তানি ভারসাম্য বজায় রেখে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শক্তপোক্ত করা যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমিত থাকায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তাদের মত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

এমসিসিআই: অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস, ঝুঁকি এখনও বহাল

প্রকাশিতঃ ০৬:০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) বলছে, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পরিচয় মিললেও পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর। গত সোমবার প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে চেম্বারটি সতর্ক করে জানায় যে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং স্থায়ী মূল্যস্ফীতি নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ থেকেই গেছে।

সংস্থাটি মনে করিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সতর্ক নীতিপ্রয়োগ চালিয়ে যেতে হবে। এই মূল্যায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

চেম্বারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধান সামষ্টিক সূচকে ধীরগতির সত্ত্বেও ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ স্পষ্ট। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার ও বণিক সম্পর্কিত ব্যয়ের কারণে বিস্তৃত বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অর্থনীতির ওপর দীর্ঘসময় ধরে বিরাজ করতে পারে।

গত নয় মাসের প্রবণতা বিশ্লেষণে সংস্থাটি মনে করছে যে তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানিচলান ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে। তারা অনুমান করছে, জানুয়ারির প্রায় ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে মার্চে রপ্তানি আয় প্রায় ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৈদেশিক চাহিদা কিছুটা বাড়া ও চালান বৃদ্ধিই এই উন্নতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে আমদানিও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে সম্ভাব্য আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে তা প্রায় ৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে ওঠার কথা বলা হয়েছে। শিল্প কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ চাহিদি বাড়লেও রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে চেম্বারটি ধারনা করছে। জানুয়ারিতে সামান্য কমার পর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রবাসী আয় বাড়ার আশা করা হচ্ছে; মার্চে রেমিট্যান্স প্রায় ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে—যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জানুয়ারির ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে প্রায় ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠার সম্ভাবনা আছে। বৃদ্ধি সীমিত হলেও এটি বহিঃখাতে ধীরগতির উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কাটেনি। চেম্বারের ধারণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং মার্চে সামান্য কমে প্রায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হতে পারে—অর্থাৎ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও কিছুটা শিথিলতার আভাস দেখা যাচ্ছে।

সংস্থাটি আশাবাদী যে সঠিক নীতি সমন্বয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ ও আমদানি–রপ্তানি ভারসাম্য বজায় রেখে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শক্তপোক্ত করা যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমিত থাকায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তাদের মত।