০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এনসিপি-যোগী বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা, প্রজ্ঞাপন জারি বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং ঘোষণা দ্বিতীয় তেল শোধনাগার জরুরি: সেনাপ্রধান জাতীয় সংসদের গ্যালারি সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ সংসদে প্রধানমন্ত্রী: মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন

এনসিপি-যোগী বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া কয়েক নেতার বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া বলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার নামে সংগৃহীত অর্থ গোপনে লোপাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মালিকানা নয়; এটি সাধারণ জনগণের প্ল্যাটফর্ম। সেটিকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রীয় বা জনসমর্থনকৃত অর্থ আদায় ও ব্যবহার করার সুযোগ নেই।’

নেতারা অভিযোগ করেন, প্রাথমিকভাবে এ প্রচারণার জন্য প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাধারণ সদস্যদের অজানায় তা ব্যবহারের অস্বচ্ছতা দেখা দিয়েছে। সিনথিয়া বলেন, ‘গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থেকেই আমরা অর্থায়নের উৎস এবং খরচ কীভাবে করা হচ্ছে তা জানতে চাইছিলাম। কিন্তু শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত হিসাব দেখায়নি, কেবল মৌখিক তথ্য দিয়েছেন যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

তিনি আরও দাবি করেন, এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে কয়েকজন শীর্ষ নেতা মোবাইল ফোন রেখে গিয়েছিলেন; পরে তারা মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট হিসাব কিংবা প্রমাণ এখনও দেখানো হয়নি।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে সেটিও কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অগোছালো রেখে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনিয়ম হয়েছে। ফলে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপারে অডিটের দাবি জানিয়েছেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিনথিয়া বলেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি ও অপপ্রচারের সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কখনও কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করিনি। যদি কেউ বলতে পারে আমাদের কেউ এক টাকাও চেয়েছে—তাহলে তা প্রমাণ করুন, বিচার রাষ্ট্রবন্দি ও আইনকেন্দ্রিক হবে।’

অভিযোগকারীরা সংগঠনের পুনর্গঠন ও উত্তরদায়ী ব্যবস্থারও দাবি জানায়। তারা নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি করেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কিত জানতে চাইলে অভিযুক্ত নেতা রিফাত রশিদ, মঈনুল ইসলাম ও হাসিব আল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা, প্রজ্ঞাপন জারি

এনসিপি-যোগী বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া কয়েক নেতার বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া বলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার নামে সংগৃহীত অর্থ গোপনে লোপাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মালিকানা নয়; এটি সাধারণ জনগণের প্ল্যাটফর্ম। সেটিকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রীয় বা জনসমর্থনকৃত অর্থ আদায় ও ব্যবহার করার সুযোগ নেই।’

নেতারা অভিযোগ করেন, প্রাথমিকভাবে এ প্রচারণার জন্য প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাধারণ সদস্যদের অজানায় তা ব্যবহারের অস্বচ্ছতা দেখা দিয়েছে। সিনথিয়া বলেন, ‘গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থেকেই আমরা অর্থায়নের উৎস এবং খরচ কীভাবে করা হচ্ছে তা জানতে চাইছিলাম। কিন্তু শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত হিসাব দেখায়নি, কেবল মৌখিক তথ্য দিয়েছেন যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

তিনি আরও দাবি করেন, এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে কয়েকজন শীর্ষ নেতা মোবাইল ফোন রেখে গিয়েছিলেন; পরে তারা মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট হিসাব কিংবা প্রমাণ এখনও দেখানো হয়নি।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে সেটিও কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অগোছালো রেখে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে অনিয়ম হয়েছে। ফলে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপারে অডিটের দাবি জানিয়েছেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিনথিয়া বলেন, সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি ও অপপ্রচারের সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কখনও কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করিনি। যদি কেউ বলতে পারে আমাদের কেউ এক টাকাও চেয়েছে—তাহলে তা প্রমাণ করুন, বিচার রাষ্ট্রবন্দি ও আইনকেন্দ্রিক হবে।’

অভিযোগকারীরা সংগঠনের পুনর্গঠন ও উত্তরদায়ী ব্যবস্থারও দাবি জানায়। তারা নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি করেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কিত জানতে চাইলে অভিযুক্ত নেতা রিফাত রশিদ, মঈনুল ইসলাম ও হাসিব আল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।