০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে বিস্ফোরণ, চার দেশে অস্থিরতা

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা-পাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘‘বড় ধরনের যুদ্ধ অপারেশন’’ শুরু করবে। এর আগে একই দিনে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এই সাঁড়াশি হামলার জবাবে তেহরানও দ্রুত পাল্টা আঘাত শুরু করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কাতারের কর্তৃপক্ষ জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেশের সব নাগরিককে ঘরের ভেতরে থাকার ও সামরিক স্থাপনাদের কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মার্কিন নৌবহর পঞ্চম কর্পসের সদরদপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দোহায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষকে জনগণকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।

নিরাপত্তার কারণে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী কাতারের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর সতর্কবার্তায় বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করবো।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ প্রক্সিগুলো আর অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না এবং ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা শিগগিরই উপলব্ধি করবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।”

তেহরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছে, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্য হবে।” অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলটি কঠিন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দমনশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন, এবং মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগজনক শান্তি-নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে বিস্ফোরণ, চার দেশে অস্থিরতা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা-পাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘‘বড় ধরনের যুদ্ধ অপারেশন’’ শুরু করবে। এর আগে একই দিনে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এই সাঁড়াশি হামলার জবাবে তেহরানও দ্রুত পাল্টা আঘাত শুরু করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কাতারের কর্তৃপক্ষ জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেশের সব নাগরিককে ঘরের ভেতরে থাকার ও সামরিক স্থাপনাদের কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মার্কিন নৌবহর পঞ্চম কর্পসের সদরদপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দোহায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর কর্তৃপক্ষকে জনগণকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।

নিরাপত্তার কারণে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী কাতারের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর সতর্কবার্তায় বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করবো।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ প্রক্সিগুলো আর অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না এবং ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা শিগগিরই উপলব্ধি করবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।”

তেহরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছে, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্য হবে।” অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে এই বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলটি কঠিন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দমনশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন, এবং মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগজনক শান্তি-নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।