০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

ইরান ইস্যুতে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস

ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ভয়ের প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের শুরুতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন ও লেনদেনের সংকোচন দেখা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের শুরুতেই বিক্রির চাপ তীব্র হয়ে প্রধান সূচক এক পর্যায়ে ২২৩ পয়েন্ট নেমে যায়। পরে কিছু ক্রেতার সক্রিয়তা আহাতিলে পতনের গতি কিছুটা হ্রাস পেলেও দিনের শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট পড়ে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে নেমেছে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেন অংশ নিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার; তবু মূল্যহ্রাস সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। রোববার ডিএসইতে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে, বিপরীতে ৩৫৩টির দর কমে এবং ৬টির দর অপরিবর্তিত রইল।

ক্যাটাগরিভিত্তিক পরিস্থিতি বলছে— ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ১৯২টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত ছিল। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ৭৭টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার তুলনায় ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম। লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার—৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন; এরপর খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ (২৭ কোটি ৩০ লাখ) ও ওরিয়ন ইনফিউশন (২৫ কোটি ৯৮ লাখ)। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশে রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা ও ঢাকা ব্যাংকও ছিল।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র—বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর নেমে গেছে ও লেনদেন কমেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক কাসপিআই ২৪৫ পয়েন্ট পড়েছে। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তুলনায় স্থবিরতা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন—ইই ঘটনার প্রভাব থেকে বাজারে স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার সময় নেবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ায় শর্ট-টার্ম ট্রেডিং কার্যক্রমেও ধকল পড়েছে।

মোট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার স্রোতে রোববার দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাপক ঝটকা লেগেছে; ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না, তা বড় অংশে নির্ভর করবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ধারাবাহিকতা কিভাবে পরিচালিত হয় তার ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া

ইরান ইস্যুতে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ভয়ের প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের শুরুতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন ও লেনদেনের সংকোচন দেখা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের শুরুতেই বিক্রির চাপ তীব্র হয়ে প্রধান সূচক এক পর্যায়ে ২২৩ পয়েন্ট নেমে যায়। পরে কিছু ক্রেতার সক্রিয়তা আহাতিলে পতনের গতি কিছুটা হ্রাস পেলেও দিনের শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট পড়ে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে নেমেছে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেন অংশ নিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার; তবু মূল্যহ্রাস সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। রোববার ডিএসইতে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ে, বিপরীতে ৩৫৩টির দর কমে এবং ৬টির দর অপরিবর্তিত রইল।

ক্যাটাগরিভিত্তিক পরিস্থিতি বলছে— ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ১৯২টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত ছিল। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ৭৭টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার তুলনায় ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম। লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার—৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন; এরপর খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ (২৭ কোটি ৩০ লাখ) ও ওরিয়ন ইনফিউশন (২৫ কোটি ৯৮ লাখ)। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশে রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা ও ঢাকা ব্যাংকও ছিল।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র—বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর নেমে গেছে ও লেনদেন কমেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক কাসপিআই ২৪৫ পয়েন্ট পড়েছে। এখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তুলনায় স্থবিরতা প্রকাশ করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন—ইই ঘটনার প্রভাব থেকে বাজারে স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার সময় নেবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ায় শর্ট-টার্ম ট্রেডিং কার্যক্রমেও ধকল পড়েছে।

মোট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার স্রোতে রোববার দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাপক ঝটকা লেগেছে; ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না, তা বড় অংশে নির্ভর করবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ধারাবাহিকতা কিভাবে পরিচালিত হয় তার ওপর।