১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন

দেশের মানুষের সেবার অঙ্গীকার করে নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১,৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহন করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত এই চিকিৎসকদের বরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমকালো আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই; পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে যদি মানবিকতা না মেশে তবে সত্যিকারের চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, রোগীরা যেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হয়, সেই মানেই নিজেদের গড়ে তুলুন। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাব, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। তিনি রেসিডেন্টদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ব করে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহ দেন।

ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালানোর নেতৃত্বে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি জানান, ই-লগবুক ও ই-আইআরবি চালুর ফলে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,১০০টিরও বেশি গবেষণার ফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হওয়ায় গবেষণার ক্ষেত্রে বিএমইউর অগ্রগতি স্পষ্ট—এ কথা উল্লেখ করে তিনি নবীন চিকিৎসকদের গবেষণায় উৎসাহিত করেন। এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমানোর বিশেষ অনুরোধ জানান ভিসি।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উচ্চ পদাধিকারিরাও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নবীনদের উত্সাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো — প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনোভাব, আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের সেবায় এগিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

দেশের মানুষের সেবার অঙ্গীকার করে নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১,৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহন করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত এই চিকিৎসকদের বরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমকালো আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই; পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে যদি মানবিকতা না মেশে তবে সত্যিকারের চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, রোগীরা যেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হয়, সেই মানেই নিজেদের গড়ে তুলুন। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাব, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। তিনি রেসিডেন্টদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ব করে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহ দেন।

ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালানোর নেতৃত্বে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং রেসিডেন্টদের শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি জানান, ই-লগবুক ও ই-আইআরবি চালুর ফলে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,১০০টিরও বেশি গবেষণার ফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হওয়ায় গবেষণার ক্ষেত্রে বিএমইউর অগ্রগতি স্পষ্ট—এ কথা উল্লেখ করে তিনি নবীন চিকিৎসকদের গবেষণায় উৎসাহিত করেন। এছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় কমানোর বিশেষ অনুরোধ জানান ভিসি।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উচ্চ পদাধিকারিরাও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশগ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নবীনদের উত্সাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো — প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনোভাব, আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের সেবায় এগিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।