১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

আইআরজিসি ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় সমর্থকদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর জন্য বন্ধ রাখা হবে। দেশীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল заметভাবে কমে এসেছে। ফলে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তেলবাজারে দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশংকা জাগেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট; এখানে সমস্যা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের জেনারেল কিওমারস হায়দারি জানিয়েছেন, ইরান তাদের উদ্দেশ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুতর ক্ষতি করা পর্যন্ত সংঘাত থেকে সরে আসবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাদের কাছে যুদ্ধের সময়ের কৌশল ও অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা লড়াই চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না লক্ষ্য পূরণ হয়।

সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানকে ঘিরে থাকা কয়েকটি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে; একই সঙ্গে ইরান প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক ও আজারবাইজানেও প্রতিশোধমূলক হামলার কথা জানিয়েছে।

রাশিয়া বলেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না করলে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মস্কো additionally যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরব দেশগুলোকে কোনো কিছুর স্বার্থে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে এবং এমন পরিস্থিতি জনমালানাশ ও হতাহতের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আজারবাইজান অভিযোগ করেছে যে ইরানের ড্রোন নাখচিবান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিমানবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার কাছে আঘাত হানায় দুজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজারবাইজান এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে; এখনো পর্যন্ত ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে আইআরজিসি দাবি করেছে যে তারা পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই অভিযোগটি প্রকাশ করেছে, তবে হামলার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি দ্বৈধতা ও নৌপথ নিরাপত্তা, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা—এই সবকিছুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপ আগামীদিনে উত্তেজনা বাড়বে নাকি শান্তির পথ মিলবে, তা নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

আইআরজিসি ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় সমর্থকদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর জন্য বন্ধ রাখা হবে। দেশীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার ইরানের রয়েছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল заметভাবে কমে এসেছে। ফলে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তেলবাজারে দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার আশংকা জাগেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট; এখানে সমস্যা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের জেনারেল কিওমারস হায়দারি জানিয়েছেন, ইরান তাদের উদ্দেশ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুতর ক্ষতি করা পর্যন্ত সংঘাত থেকে সরে আসবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাদের কাছে যুদ্ধের সময়ের কৌশল ও অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা লড়াই চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না লক্ষ্য পূরণ হয়।

সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানকে ঘিরে থাকা কয়েকটি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে; একই সঙ্গে ইরান প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক ও আজারবাইজানেও প্রতিশোধমূলক হামলার কথা জানিয়েছে।

রাশিয়া বলেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না করলে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মস্কো additionally যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরব দেশগুলোকে কোনো কিছুর স্বার্থে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে এবং এমন পরিস্থিতি জনমালানাশ ও হতাহতের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আজারবাইজান অভিযোগ করেছে যে ইরানের ড্রোন নাখচিবান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বিমানবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার কাছে আঘাত হানায় দুজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজারবাইজান এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে; এখনো পর্যন্ত ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে আইআরজিসি দাবি করেছে যে তারা পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই অভিযোগটি প্রকাশ করেছে, তবে হামলার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি দ্বৈধতা ও নৌপথ নিরাপত্তা, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা—এই সবকিছুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পদক্ষেপ আগামীদিনে উত্তেজনা বাড়বে নাকি শান্তির পথ মিলবে, তা নির্ধারণ করবে।