০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে ৪০ লাখ ছাড়ালো আয়কর দাখিল

দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়ে দিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৪০ লাখের বেশি করদাতা। বুধবার (৪ মার্চ) এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এনবিআর বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে — যা আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার প্রতি করদাতাদের আস্থার প্রতিফলন। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি বাদ দিয়ে সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রক্রিয়াটি গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দেন। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা দাখিল সম্পন্ন করেছেন। তুলনামূলকভাবে, গত বছর নির্দিষ্ট সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট করদাতার মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিতে বেতনভোগীরা সংখ্যায় এগিয়ে থেকেছে — প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী করযোগ্য সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রায় ২২ লাখ নাগরিক ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জও পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও সময় সাশ্রয়। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কিছু মিনিটে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলে ওটিপি নিয়ে অনলাইনে সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। যদি কোনো ভুল ধরা পড়ে, তাহলে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধন করা যায়।

করদাতাদের সহায়তার জন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সমস্যা সমাধানের সেবা দেওয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তির সাহায্যে এই পরিবর্তন দেশের রাজস্ব আহরণকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সেবার সহজলভ্যতা বাড়লে ভবিষ্যতে করদাতাদের ভোক্তা-বান্ধব অভিজ্ঞতা ও রাজস্ব সংকলনও বলবতী হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইনে ৪০ লাখ ছাড়ালো আয়কর দাখিল

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়ে দিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৪০ লাখের বেশি করদাতা। বুধবার (৪ মার্চ) এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এনবিআর বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার ই-রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে — যা আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার প্রতি করদাতাদের আস্থার প্রতিফলন। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি বাদ দিয়ে সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রক্রিয়াটি গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৪০ হাজার এবং ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দেন। চলতি মার্চের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা দাখিল সম্পন্ন করেছেন। তুলনামূলকভাবে, গত বছর নির্দিষ্ট সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট করদাতার মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিতে বেতনভোগীরা সংখ্যায় এগিয়ে থেকেছে — প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাদের বেতনের আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী করযোগ্য সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রায় ২২ লাখ নাগরিক ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সারচার্জও পরিশোধ করেছেন।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও সময় সাশ্রয়। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কিছু মিনিটে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলে ওটিপি নিয়ে অনলাইনে সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। যদি কোনো ভুল ধরা পড়ে, তাহলে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধন করা যায়।

করদাতাদের সহায়তার জন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সমস্যা সমাধানের সেবা দেওয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রযুক্তির সাহায্যে এই পরিবর্তন দেশের রাজস্ব আহরণকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সেবার সহজলভ্যতা বাড়লে ভবিষ্যতে করদাতাদের ভোক্তা-বান্ধব অভিজ্ঞতা ও রাজস্ব সংকলনও বলবতী হবে।