০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩ লাখ টাকা জরিমানা রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে চারটি পৃথক মামলা থেকে জামিন দিয়েছেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, চারটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারামুক্ত হবেন না।

আদালত ও মামলার কাগজপত্র থেকে জানা যায়, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যা সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বাকি তিনটি মামলা ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগ এনিয়ে শাহবাগ, ফতুল্লা ও বন্দর থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে আরজি করেন এবং শুনানির পর হাইকোর্ট চারটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করে। তবে আদালতের আদেশ পেলে সশর্ত মুক্তি মিললেও, আদালত ও আইনজীবীরা জানান যে অন্য একটি মামলায়—প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায়—তাঁর বিরুদ্ধে জামিন পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে এখনই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হতে পারছেন না।

শুনানিতে সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আইনজীবীদের একটি দল। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একযোগে এমন গুরুতর অভিযোগে বহু মামলার ঘটনা বিরল এবং এটি নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশ তাকে আংশিক আইনি স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য দুদকের মামলার ফল অনেকটাই নির্ধারণী হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

প্রকাশিতঃ ১০:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে চারটি পৃথক মামলা থেকে জামিন দিয়েছেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, চারটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারামুক্ত হবেন না।

আদালত ও মামলার কাগজপত্র থেকে জানা যায়, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যা সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বাকি তিনটি মামলা ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগ এনিয়ে শাহবাগ, ফতুল্লা ও বন্দর থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে আরজি করেন এবং শুনানির পর হাইকোর্ট চারটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করে। তবে আদালতের আদেশ পেলে সশর্ত মুক্তি মিললেও, আদালত ও আইনজীবীরা জানান যে অন্য একটি মামলায়—প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায়—তাঁর বিরুদ্ধে জামিন পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে এখনই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হতে পারছেন না।

শুনানিতে সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আইনজীবীদের একটি দল। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একযোগে এমন গুরুতর অভিযোগে বহু মামলার ঘটনা বিরল এবং এটি নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশ তাকে আংশিক আইনি স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত মুক্তির জন্য দুদকের মামলার ফল অনেকটাই নির্ধারণী হবে।