১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

সরকার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি শক্তিশালী করতে দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের একটি পাইলট শুরুর ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা ঈদুল ফিতরের আগেই কার্যত শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দ এই মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন—এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের সিদ্ধান্তটি জনসাধারণকে জানানো হয়।

পাইলট পর্বে দেশের নির্দিষ্ট সংখ্যক উপাসনালয় বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১টি করে), ৯৯০টি মন্দির (প্রতিটি উপজেলা থেকে ২টি করে), ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার (৭২টি উপজেলায় ২টি করে) এবং ৩৯৬টি গির্জা (১৯৮টি উপজেলায় ২টি করে)।

মাসিক ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে: মসজিদে—ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা; মন্দিরে—পুরোহিত ৫,০০০ টাকা ও সেবাইত ৩,০০০ টাকা; বৌদ্ধ বিহারে—বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা; এবং গির্জায়—যাজক ৫,০০০ টাকা ও সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।

এছাড়া উৎসবে অতিরিক্ত ভাতাও দেয়া হবে—প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ১,০০০ টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের প্রতি উৎসবে ২,০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।

পাইলট স্কিম বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রয়োজন ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে এটি সরাসরি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রেখে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্মানী পৌঁছে দেওয়া হবে।

যদি ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত উপাসনালয় এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে বার্ষিক আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা। সরকার এই প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে চারটি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করবে—২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

সম্মানী প্রদানের নিয়ম-কানুন ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটির আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত সচিব (বাজেট/সংস্থা) সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছাড়াও অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা জায়গা পেয়েছেন।

কমিটির মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো—দক্ষতা উন্নয়নমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, খতিব-ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে বাড়ানো এবং তাদের চাকরিস্বরূপ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযোজ্য বিধি-নিয়ম বা নীতিমালা প্রণয়ন করা।

সরকারের লক্ষ্য হলো শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ববোধ শক্তিশালী করা, যাতে তারা সমাজে সম্প্রতি ও ঐক্য বজায় রাখতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

সরকার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি শক্তিশালী করতে দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের একটি পাইলট শুরুর ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা ঈদুল ফিতরের আগেই কার্যত শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দ এই মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন—এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের সিদ্ধান্তটি জনসাধারণকে জানানো হয়।

পাইলট পর্বে দেশের নির্দিষ্ট সংখ্যক উপাসনালয় বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মোট ৪,৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১টি করে), ৯৯০টি মন্দির (প্রতিটি উপজেলা থেকে ২টি করে), ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার (৭২টি উপজেলায় ২টি করে) এবং ৩৯৬টি গির্জা (১৯৮টি উপজেলায় ২টি করে)।

মাসিক ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এভাবে: মসজিদে—ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা; মন্দিরে—পুরোহিত ৫,০০০ টাকা ও সেবাইত ৩,০০০ টাকা; বৌদ্ধ বিহারে—বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা; এবং গির্জায়—যাজক ৫,০০০ টাকা ও সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।

এছাড়া উৎসবে অতিরিক্ত ভাতাও দেয়া হবে—প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ১,০০০ টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের প্রতি উৎসবে ২,০০০ টাকা করে প্রদান করা হবে।

পাইলট স্কিম বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রয়োজন ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে এটি সরাসরি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রেখে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্মানী পৌঁছে দেওয়া হবে।

যদি ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত উপাসনালয় এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে বার্ষিক আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা। সরকার এই প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে চারটি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করবে—২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

সম্মানী প্রদানের নিয়ম-কানুন ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটির আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত সচিব (বাজেট/সংস্থা) সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছাড়াও অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা জায়গা পেয়েছেন।

কমিটির মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো—দক্ষতা উন্নয়নমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, খতিব-ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে বাড়ানো এবং তাদের চাকরিস্বরূপ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযোজ্য বিধি-নিয়ম বা নীতিমালা প্রণয়ন করা।

সরকারের লক্ষ্য হলো শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও দায়িত্ববোধ শক্তিশালী করা, যাতে তারা সমাজে সম্প্রতি ও ঐক্য বজায় রাখতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।