০২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শাকিবের ‘প্রিন্স’ দিয়ে পুনরায় খুলছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বাধ্যতামূলক বিরতি কাটিয়ে আবারও দর্শকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর থেকে এই প্রেক্ষাগৃহ আবার যাত্রা শুরু করবে। শোনা যাচ্ছে, শাকিবের মেগা প্রজেক্টটি স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানিয়েছেন অসহনীয় আর্থিক লসের কারণে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বন্ধ থাকার সময় ভবনটি সাময়িকভাবে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, মাস যত গিয়েছে ক্ষতির বোঝা তত বাড়ছিল এবং একপর্যায়ে ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ইউনুস রুবেল বলেন, মধুবন তার কাছে শুধুই ব্যবসা নয়—এটি তার বাবার খোঁচা ও পারিবারিক স্মৃতির এক অমূল্য অংশ। তাই বন্ধ ঘোষণার পরও তিনি একটি কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশায় ছিলেন, বিশেষ করে দেশে নির্বাচিত সরকার গঠন হলে শিল্প-সংক্রান্ত নীতিতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না—এই ভরসা রাখছিলেন।

প্রেক্ষাগৃহ পুনরায় চালু করতে মালিকপক্ষ সরকারের কাছ থেকে বড় ধরনের উদ্যোগ ও সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। তাদের যুক্তি, দেশীয় মানসম্পন্ন ছবির পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই বা হলিউড থেকে মানসম্মত বিদেশি ব্লকবাস্টার আনার অনুমতি না থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত আধুনিক সিনেপ্লেক্সগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। আমদানি করা চলচ্চিত্রগুলো হলে নিমগ্ন দর্শক আনায়ন করে গতিশীলতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে—এমনটাই তাদের মতামত।

বগুড়া জেলাটা একসময় দেশের চিত্রপ্রেমীদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল; এক সময়ে এখানে একযোগে ৩৮টি সিনেমা হল ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এখন জেলায় যা রয়ে গেছে তা মাত্র সাতটি—এর মধ্যে শহরের মূল কেন্দ্রে মধুবন অন্যতম। সেই দিক থেকে মধুবনের পুনরায় খোলা উত্তরের চলচ্চিত্র পাড়ায় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধুবন কর্তৃপক্ষের আশা, নির্বাচিত নতুন সরকার হলে তারা سینেমা হল মালিকদের বাঁচাতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করবে এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করবে। কাতর প্রত্যাশার সঙ্গে বলতে হয়—আগামী ঈদে মধুবনের হলে ফিরে আসা হাসি মুখই তাদের সেরা পুরস্কার হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শাকিবের ‘প্রিন্স’ দিয়ে পুনরায় খুলছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স

প্রকাশিতঃ ০৯:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বাধ্যতামূলক বিরতি কাটিয়ে আবারও দর্শকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর থেকে এই প্রেক্ষাগৃহ আবার যাত্রা শুরু করবে। শোনা যাচ্ছে, শাকিবের মেগা প্রজেক্টটি স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানিয়েছেন অসহনীয় আর্থিক লসের কারণে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বন্ধ থাকার সময় ভবনটি সাময়িকভাবে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি জানান, মাস যত গিয়েছে ক্ষতির বোঝা তত বাড়ছিল এবং একপর্যায়ে ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ইউনুস রুবেল বলেন, মধুবন তার কাছে শুধুই ব্যবসা নয়—এটি তার বাবার খোঁচা ও পারিবারিক স্মৃতির এক অমূল্য অংশ। তাই বন্ধ ঘোষণার পরও তিনি একটি কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশায় ছিলেন, বিশেষ করে দেশে নির্বাচিত সরকার গঠন হলে শিল্প-সংক্রান্ত নীতিতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না—এই ভরসা রাখছিলেন।

প্রেক্ষাগৃহ পুনরায় চালু করতে মালিকপক্ষ সরকারের কাছ থেকে বড় ধরনের উদ্যোগ ও সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। তাদের যুক্তি, দেশীয় মানসম্পন্ন ছবির পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই বা হলিউড থেকে মানসম্মত বিদেশি ব্লকবাস্টার আনার অনুমতি না থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত আধুনিক সিনেপ্লেক্সগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। আমদানি করা চলচ্চিত্রগুলো হলে নিমগ্ন দর্শক আনায়ন করে গতিশীলতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে—এমনটাই তাদের মতামত।

বগুড়া জেলাটা একসময় দেশের চিত্রপ্রেমীদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল; এক সময়ে এখানে একযোগে ৩৮টি সিনেমা হল ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এখন জেলায় যা রয়ে গেছে তা মাত্র সাতটি—এর মধ্যে শহরের মূল কেন্দ্রে মধুবন অন্যতম। সেই দিক থেকে মধুবনের পুনরায় খোলা উত্তরের চলচ্চিত্র পাড়ায় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধুবন কর্তৃপক্ষের আশা, নির্বাচিত নতুন সরকার হলে তারা سینেমা হল মালিকদের বাঁচাতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করবে এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করবে। কাতর প্রত্যাশার সঙ্গে বলতে হয়—আগামী ঈদে মধুবনের হলে ফিরে আসা হাসি মুখই তাদের সেরা পুরস্কার হবে।