০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল

জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে শিথিল করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’’ (ওএফএসি) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) একটি অনলাইন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচলের জন্য বিশেষ লাইসেন্স জারি করা হয়েছে। ওই লাইসেন্স অনুযায়ী রুশ তেলবাহী জাহাজগুলো আইনি বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে এবং এটি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ থাকবে। লাইসেন্সটি মূলত সেই জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর কার্যকর, যেগুলো ১২ মার্চের মধ্যে বোঝাই করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলের অংশ এবং ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।

জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘোষণার একদিন আগে দেশটি তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল মুক্ত করার কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর পেছনে কাজ করা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি — যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বুধবার সদস্য দেশগুলোর সরকারি মজুদ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসব যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য বিকল্প উৎস সচল রেখে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যস্ফীতি রোধ করা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িক এই ছাড় দেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য মূল্যঝুঁকি কমিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মন্দা থেকে রক্ষা করতে চাচ্ছে। এই ব্যবস্থা সাময়িক শিথিল হওয়া সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মনোবল ও সরবরাহ শৃঙ্খলাকে সচল রাখা হবে কিনা— তা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক উত্তাপের ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে শিথিল করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’’ (ওএফএসি) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) একটি অনলাইন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচলের জন্য বিশেষ লাইসেন্স জারি করা হয়েছে। ওই লাইসেন্স অনুযায়ী রুশ তেলবাহী জাহাজগুলো আইনি বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে এবং এটি আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ থাকবে। লাইসেন্সটি মূলত সেই জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর কার্যকর, যেগুলো ১২ মার্চের মধ্যে বোঝাই করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলের অংশ এবং ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এখন প্রধান অগ্রাধিকার হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা।

জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘোষণার একদিন আগে দেশটি তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল মুক্ত করার কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর পেছনে কাজ করা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি — যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বুধবার সদস্য দেশগুলোর সরকারি মজুদ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসব যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য বিকল্প উৎস সচল রেখে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যস্ফীতি রোধ করা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িক এই ছাড় দেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য মূল্যঝুঁকি কমিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মন্দা থেকে রক্ষা করতে চাচ্ছে। এই ব্যবস্থা সাময়িক শিথিল হওয়া সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের মনোবল ও সরবরাহ শৃঙ্খলাকে সচল রাখা হবে কিনা— তা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক উত্তাপের ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।