০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জামিনে মুক্তি: আনিস আলমগীর বললেন—’শুধু অন্যায় নয়, আমার ওপর জুলুম করা হয়েছে’ নোয়াবের নতুন সভাপতি হলেন মতিউর রহমান চৌধুরী সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত সংসদেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মো. আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ মোড়ক উন্মোচন শীঘ্রই বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু হবে: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কাশিমপুর থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর ২৩-২৫ মার্চ স্মৃতিসৌধে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জ্বালানি পর্যাপ্ত থাকবে: মন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

পোর্তোর ক্লাসিকে উত্তাপে মরিনিয়োকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ

বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়োকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল দু’ম্যাচ ও মোট ১১ দিনের জন্য সব ধরণের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। উদ্‌ভব করা বিবাদ ও অপেশাদার আচরণের ছবি ফুটবলের সিটিং-রুমে আলোড়ন তুলেছে, আর সেই ঘটনার জেরে ক্লাবে নতুন করে ঝামেলার সম্ভাবনা पैदा হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছিল গত রোববারের ‘পর্তুগিজ ক্লাসিকো’—বেনফিকা বনাম পোর্তোর ম্যাচে। খেলা চলাকালীন অতিরিক্ত সময়ে ১-১ অবস্থায় মরিনিয়ো উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষ ডাগআউটের দিকে বল ছুঁড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, দর্শকবৃন্দের দিকে গোল উদযাপনের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু বলটি ভুল করে পোর্তোর রিজার্ভ বেঞ্চে গিয়ে লাগে। ঘটনাচক্রে এর পরেই পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসের সঙ্গে মরিনিয়োর তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে মরিনিয়ো একটি বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে প্রতিপক্ষ কোচকে ‘ছোট’ বলে আখ্যা দেন—যার জবাবে গঞ্জালেস তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। মারামারি-পর্যায়ে পৌঁছানো উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান মরিনিয়োকে।

ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরিনিয়োকে ১১ দিন সব ধরণের ফুটবল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেনফিকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচ আছে, যেগুলোতে তিনি দলকে ডাগআউট থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। একই ঘটনায় পোর্তোরের সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসকেও এক ম্যাচ এবং আট দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মরিনিয়ো ফলাফলকে ‘অন্যায্য ও অনুপোযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে ফেডারেশনের রায়কে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। বেনফিকা পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এটা স্মরণীয় যে, মরিনিয়ো ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ডাগআউটে থাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন লাল কার্ড নিষেধাজ্ঞার কারণে—ফুটবলে তাঁর বারবার উত্তেজনাপূর্ণ আচরণে বিতর্ক তৈরি হওয়াই এক ধাঁচের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেনফিকার জন্য সময়টা সংবেদনশীল। লিগ শিরোপার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে কোচের অনুপস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কি ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ক্লাব কর্মকর্তারা ও খেলোয়াড়রা আপিল প্রক্রিয়া ও আগামী লড়াইগুলোকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজাতে ব্যস্ত।

মাঠের বাইরে এই নাটকীয় উত্তেজনা ছড়ালে, এখন দেখার বিষয়—মরিনিয়ো ও বেনফিকা কীভাবে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মনোবল তৈরি করে ফিরে আসে, নাকি নিষেধাজ্ঞা তাদের লিগ অভিযানকে সামনে থেকে খামচাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পোর্তোর ক্লাসিকে উত্তাপে মরিনিয়োকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ

প্রকাশিতঃ ০৯:২০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়োকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল দু’ম্যাচ ও মোট ১১ দিনের জন্য সব ধরণের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। উদ্‌ভব করা বিবাদ ও অপেশাদার আচরণের ছবি ফুটবলের সিটিং-রুমে আলোড়ন তুলেছে, আর সেই ঘটনার জেরে ক্লাবে নতুন করে ঝামেলার সম্ভাবনা पैदा হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছিল গত রোববারের ‘পর্তুগিজ ক্লাসিকো’—বেনফিকা বনাম পোর্তোর ম্যাচে। খেলা চলাকালীন অতিরিক্ত সময়ে ১-১ অবস্থায় মরিনিয়ো উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষ ডাগআউটের দিকে বল ছুঁড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, দর্শকবৃন্দের দিকে গোল উদযাপনের ইচ্ছে ছিল, কিন্তু বলটি ভুল করে পোর্তোর রিজার্ভ বেঞ্চে গিয়ে লাগে। ঘটনাচক্রে এর পরেই পোর্তোর সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসের সঙ্গে মরিনিয়োর তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে মরিনিয়ো একটি বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করে প্রতিপক্ষ কোচকে ‘ছোট’ বলে আখ্যা দেন—যার জবাবে গঞ্জালেস তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। মারামারি-পর্যায়ে পৌঁছানো উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান মরিনিয়োকে।

ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরিনিয়োকে ১১ দিন সব ধরণের ফুটবল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেনফিকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচ আছে, যেগুলোতে তিনি দলকে ডাগআউট থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। একই ঘটনায় পোর্তোরের সহকারী কোচ লুইস গঞ্জালেসকেও এক ম্যাচ এবং আট দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মরিনিয়ো ফলাফলকে ‘অন্যায্য ও অনুপোযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে ফেডারেশনের রায়কে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। বেনফিকা পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এটা স্মরণীয় যে, মরিনিয়ো ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ডাগআউটে থাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন লাল কার্ড নিষেধাজ্ঞার কারণে—ফুটবলে তাঁর বারবার উত্তেজনাপূর্ণ আচরণে বিতর্ক তৈরি হওয়াই এক ধাঁচের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেনফিকার জন্য সময়টা সংবেদনশীল। লিগ শিরোপার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে কোচের অনুপস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কি ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ক্লাব কর্মকর্তারা ও খেলোয়াড়রা আপিল প্রক্রিয়া ও আগামী লড়াইগুলোকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজাতে ব্যস্ত।

মাঠের বাইরে এই নাটকীয় উত্তেজনা ছড়ালে, এখন দেখার বিষয়—মরিনিয়ো ও বেনফিকা কীভাবে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মনোবল তৈরি করে ফিরে আসে, নাকি নিষেধাজ্ঞা তাদের লিগ অভিযানকে সামনে থেকে খামচাবে।