পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় লাক্কি মারওয়াতে একটি টহলরত পুলিশ গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাত জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে দেশীয় সংবাদমাধ্যম সামা টিভি নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণে গাড়িটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়মিত টহলকালে গাড়িটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত অফিসার (এসএইচও)সহ সাতজন প্রাণ হারান। নিহতদের নাম ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এসএইচও সদর আজম, কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা এবং সাখি জাদা। কর্তব্যরত অবস্থায় এই মারাত্মক হতাহতের সংবাদ নেয়া নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং বিস্তৃত তল্লাশি ও প্রতিরোধী অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিস্ফোরণটি আগে থেকেই স্থাপন করা আইইডি ছিল নাকি এটি আত্মঘাতী আক্রমণ—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই হামলার দায় বহন করেনি, তবে কিয়, ওই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান চলছে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে প্রশাসনিক ও চিকিৎসা দল জরুরিভিত্তিতে কাজ করছে; আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রেরণ করেছেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাক্কি মারওয়াতের এই রক্তক্ষয়ী হামলা স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের বিস্তার ঘটিয়েছে, এবং তদন্তকারীরা দ্রুত দায়িদের শনাক্ত করে হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























