০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই

ঈদের জন্য ঘরমুখী মানুষের চাপ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। এ কারণেই রাজধানীর বেশিরভাগ বাস টার্মিনালে এখনো চলাচল স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। তবু জ্বালানি তেলের সংকট যানজট না থাকলেও পরিবহনখাতে চিন্তার কারণ হিসেবে রয়ে গেছে — পাম্পে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালক ও সহকর্মীদের।

সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় ছিল না। কাউন্টারে থেকে সহজেই টিকিট মিলছিল এবং রাস্তায় যানজট না থাকায় বাস ধরতেও সমস্যা হচ্ছিল না। এসি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ পরিস্থিতি তেমন ঝামেলার নয়। আমি এসির জন্য অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু এসি বাস না থাকায় নন-এসির টিকিট নিলাম। খোঁজ করতে বেশি সময় লাগেনি—দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই টিকিট পেয়েছি।’

তবে পরিবহনকর্মীদের কথায় তেলের সঙ্কট এখনো অবসান ঘটেনি। তারা বলছেন, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে হচ্ছে, তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং বেতন-ভাতার বিষয়েও অসন্তোষ আছে। এক বাসচালক জানান, ‘রাস্তা শুরুতে বেশ খোলা ছিল, কিন্তু বনানী থেকে মহাখালী পর্যন্ত আসতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে—এটুকু রাস্তা পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগল। রাস্তায় যতগুলো পাম্প আছে, প্রত্যেকেই বলছে তেল শেষ। ওইসব যাত্রীর সুযোগ আমরা পাচ্ছি না।’

গাবতলীর চিত্রও বেশ অনুরূপ। সেখানে কর্তৃপক্ষ বলছে, এলাকা থেকে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএর নির্ধারিত চার্টের বাইরে ভাড়া নেওয়া যাবে না—এটি আমরা সবাইকে অনুরোধ করেছি। আশা করি সবাই এটি মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, কিছু ছোটখাটো অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে এবং কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে; বেশিরভাগ counters নিয়ম মেনে চলছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। তেল সরবরাহ কবে নিজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং এ সংকট কি পূর্ণরূপে সমাধান হবে—সেটাই এখন ভ্রমণকারীদের ও পরিবহনকর্মীদের উদ্বেগের বিষয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ঈদের জন্য ঘরমুখী মানুষের চাপ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। এ কারণেই রাজধানীর বেশিরভাগ বাস টার্মিনালে এখনো চলাচল স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। তবু জ্বালানি তেলের সংকট যানজট না থাকলেও পরিবহনখাতে চিন্তার কারণ হিসেবে রয়ে গেছে — পাম্পে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালক ও সহকর্মীদের।

সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় ছিল না। কাউন্টারে থেকে সহজেই টিকিট মিলছিল এবং রাস্তায় যানজট না থাকায় বাস ধরতেও সমস্যা হচ্ছিল না। এসি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ পরিস্থিতি তেমন ঝামেলার নয়। আমি এসির জন্য অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু এসি বাস না থাকায় নন-এসির টিকিট নিলাম। খোঁজ করতে বেশি সময় লাগেনি—দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই টিকিট পেয়েছি।’

তবে পরিবহনকর্মীদের কথায় তেলের সঙ্কট এখনো অবসান ঘটেনি। তারা বলছেন, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে হচ্ছে, তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং বেতন-ভাতার বিষয়েও অসন্তোষ আছে। এক বাসচালক জানান, ‘রাস্তা শুরুতে বেশ খোলা ছিল, কিন্তু বনানী থেকে মহাখালী পর্যন্ত আসতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে—এটুকু রাস্তা পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগল। রাস্তায় যতগুলো পাম্প আছে, প্রত্যেকেই বলছে তেল শেষ। ওইসব যাত্রীর সুযোগ আমরা পাচ্ছি না।’

গাবতলীর চিত্রও বেশ অনুরূপ। সেখানে কর্তৃপক্ষ বলছে, এলাকা থেকে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএর নির্ধারিত চার্টের বাইরে ভাড়া নেওয়া যাবে না—এটি আমরা সবাইকে অনুরোধ করেছি। আশা করি সবাই এটি মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, কিছু ছোটখাটো অভিযোগ তাঁদের কাছে এসেছে এবং কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে; বেশিরভাগ counters নিয়ম মেনে চলছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। তেল সরবরাহ কবে নিজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং এ সংকট কি পূর্ণরূপে সমাধান হবে—সেটাই এখন ভ্রমণকারীদের ও পরিবহনকর্মীদের উদ্বেগের বিষয়।