০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
যমুনা নয়, গুলশান অ্যাভিনিউর নিজ বাড়িতেই থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের তৎপরতা বাড়ল রাজধানীতে ঈদ জামাতে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে ডিএমপি সদরঘাট লঞ্চ সংঘর্ষ: তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত; ২২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়বেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সদরঘাটে লঞ্চ চাপায় দুই যাত্রী নিহত, দুজন নিখোঁজ পাটুরিয়া নৌপথ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান পাটুরিয়া নৌপথ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় দুইজন নিহত, দুই আহত ও দুই নিখোঁজ

ইরান অভিযানের জন্য পেন্টাগন ২০০ বিলিয়ন ডলার অনুরোধ করেছে

ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পেন্টাগন হোয়াইট হাউজের কাছে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার (২০ হাজার কোটি টাকা) জরুরি তহবিলের আবেদন করেছে। প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই বড় অঙ্কের আর্থিক দাবি জানিয়েছে, যা কংগ্রেসে অনুমোদন পেতে কঠিন রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে।

এই প্রস্তাবিত বরাদ্দ বর্তমান বিমান হামলার খরচকে ছাড়িয়ে যায় এবং মূলত ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র ও নিখুঁত নিশানার গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন ও ইস্রায়েলি হামলায় হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ফলে এসব নিখুঁত গোলাবারু ফুরিয়ে আসায় তা পুনরায় সংগ্রহ ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

তবে হোয়াইট হাউজ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে কতটা অর্থের অনুমোদন চাইবে তা এখনও নির্ধারিত নয়। কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা পেন্টাগনের এই আবেদন পাস করানোর বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রতিরক্ষা বিভাগ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছিল।

এই তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন সীমিত এবং বহু ডেমোক্র্যাট শুরু থেকেই যুদ্ধের কঠোর সমালোচক— ফলে বিরোধী দলের চাপ বেশি। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের ইঙ্গিত দিলেও সিনেটে ৬০ ভোটের বাধা বিধানগতভাবে স্পষ্ট কোনো পথ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসন বা কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবার আগেই যুদ্ধের খরচ গতিসরে বাড়ছে; কর্মকর্তাদের অনুযায়ী প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর প্রশাসন সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে অতিরিক্ত তহবিলের পরিকল্পনা কার্যকর করার পথে নেমে পড়ে।

পেন্টাগনের এই প্রচেস্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ। তিনি মূলত দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি বাড়ানো এবং প্রধান অস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর কাজ করছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনটির উদ্দেশ্য মজুদ গোলাবারু補充 ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করা, যাতে চলমান অভিযানে সরবরাহ ঘাটতি না দেখা দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে শ্রমিক, কারখানা ও কাঁচামালের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সহজ কথা নয় এবং তা সময়সাপেক্ষ হবে। অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিরক্ষা বাজেটের এমন বড় পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ: প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদিত ইউক্রেন সহায়তার ১৮৮ বিলিয়ন ডলারেরও সমালোচনা করে থাকেন। তবু ইরান অভিযানের খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম সহ অতিরিক্ত বরাদ্দ জুড়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের তৎপরতা বাড়ল

ইরান অভিযানের জন্য পেন্টাগন ২০০ বিলিয়ন ডলার অনুরোধ করেছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পেন্টাগন হোয়াইট হাউজের কাছে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার (২০ হাজার কোটি টাকা) জরুরি তহবিলের আবেদন করেছে। প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এই বড় অঙ্কের আর্থিক দাবি জানিয়েছে, যা কংগ্রেসে অনুমোদন পেতে কঠিন রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে।

এই প্রস্তাবিত বরাদ্দ বর্তমান বিমান হামলার খরচকে ছাড়িয়ে যায় এবং মূলত ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র ও নিখুঁত নিশানার গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন ও ইস্রায়েলি হামলায় হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ফলে এসব নিখুঁত গোলাবারু ফুরিয়ে আসায় তা পুনরায় সংগ্রহ ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

তবে হোয়াইট হাউজ শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে কতটা অর্থের অনুমোদন চাইবে তা এখনও নির্ধারিত নয়। কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা পেন্টাগনের এই আবেদন পাস করানোর বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্রতিরক্ষা বিভাগ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছিল।

এই তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন সীমিত এবং বহু ডেমোক্র্যাট শুরু থেকেই যুদ্ধের কঠোর সমালোচক— ফলে বিরোধী দলের চাপ বেশি। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের ইঙ্গিত দিলেও সিনেটে ৬০ ভোটের বাধা বিধানগতভাবে স্পষ্ট কোনো পথ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসন বা কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবার আগেই যুদ্ধের খরচ গতিসরে বাড়ছে; কর্মকর্তাদের অনুযায়ী প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর প্রশাসন সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে অতিরিক্ত তহবিলের পরিকল্পনা কার্যকর করার পথে নেমে পড়ে।

পেন্টাগনের এই প্রচেস্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ। তিনি মূলত দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি বাড়ানো এবং প্রধান অস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর কাজ করছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনটির উদ্দেশ্য মজুদ গোলাবারু補充 ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করা, যাতে চলমান অভিযানে সরবরাহ ঘাটতি না দেখা দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে শ্রমিক, কারখানা ও কাঁচামালের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সহজ কথা নয় এবং তা সময়সাপেক্ষ হবে। অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিরক্ষা বাজেটের এমন বড় পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ: প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদিত ইউক্রেন সহায়তার ১৮৮ বিলিয়ন ডলারেরও সমালোচনা করে থাকেন। তবু ইরান অভিযানের খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম সহ অতিরিক্ত বরাদ্দ জুড়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী।