০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, উদ্ধারকাজ চলছে আঞ্চলিক কার্যালয়েও বায়োমেট্রিক যাচাই শুরু তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশরের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল ঋণের জট খুলছে: ১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ১০টি শনিবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশে সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

ইরান বিদ্রূপ: ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছে’

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন নাটকীয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল যে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং ইরানও এই আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে কড়া বিদ্রুপ করেছে।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র একাধারে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানে পাঠাতে চেষ্টা করেছে। ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন যে কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারসের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি এসব দাবি কল্পনাপ্রসূত বলেই নাকচ করেছেন।

জুলফাকারি মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন—কি এমন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি চলছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজেরা নিজেদেরই সঙ্গে কথা বলছে’? তিনি বলেছেন, এই ধরনের দাবি জনগণকে বিভ্রান্ত করার এক কৌশল মাত্র।

অধিকন্তু জুলফাকারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে আদর্শিক ও নৈতিক ব্যবধানের কারণে ইরান কোনোভাবেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় বসবে না। তার মতে, ইরান কোনো চাপে ভেঙে পড়বে না এবং ওয়াশিংটনের একপক্ষীয় শর্ত মেনে আলোচনা করবে না। তিনি মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতাকে সময় নষ্ট এবং অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তির প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিভক্ত আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান আরও একটি বড় হুঁশিয়ারি দেখিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। জুলফাকারি বলেন, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না যে এ অঞ্চলের বাস্তব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপরই নির্ভরশীল, ততদিন জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক ভূমিকা সম্মান করা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা আগের মতো অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নেই।

ইরানের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে

ইরান বিদ্রূপ: ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছে’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন নাটকীয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল যে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং ইরানও এই আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে কড়া বিদ্রুপ করেছে।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র একাধারে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত শান্তি পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানে পাঠাতে চেষ্টা করেছে। ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন যে কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারসের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি এসব দাবি কল্পনাপ্রসূত বলেই নাকচ করেছেন।

জুলফাকারি মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন—কি এমন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি চলছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিজেরা নিজেদেরই সঙ্গে কথা বলছে’? তিনি বলেছেন, এই ধরনের দাবি জনগণকে বিভ্রান্ত করার এক কৌশল মাত্র।

অধিকন্তু জুলফাকারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে আদর্শিক ও নৈতিক ব্যবধানের কারণে ইরান কোনোভাবেই মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় বসবে না। তার মতে, ইরান কোনো চাপে ভেঙে পড়বে না এবং ওয়াশিংটনের একপক্ষীয় শর্ত মেনে আলোচনা করবে না। তিনি মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতাকে সময় নষ্ট এবং অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তির প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিভক্ত আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান আরও একটি বড় হুঁশিয়ারি দেখিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। জুলফাকারি বলেন, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না যে এ অঞ্চলের বাস্তব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ওপরই নির্ভরশীল, ততদিন জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক ভূমিকা সম্মান করা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা আগের মতো অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নেই।

ইরানের এই অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফার পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।