০৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক তথ্যমন্ত্রী: ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি ও পরিবেশের জটিল যোগসূত্র তরুণদের অনুধাবন করতে হবে দুদকে আবেদন: আসিফ নজরুল ও মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধান দাবি কলমে ছদ্মবেশী ‘পেনগান’—রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগ হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী সংসদে পাস সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ — আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই রাখল বিল

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকায় সিটি নির্বাচনের আগে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, শুধু তাদেরই এখানে ভোটাধিকার থাকা উচিত; অন্য জায়গা থেকে এসে ভোট দেওয়া যাবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য রাখেন তিনি।

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে আবদুস সালাম বলেন, অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে ১৫০টির মতো ভোটার দেখায়। বাড়ির মালিকরাও জানেন না তারা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে। তিনি জোরে দাবি করেন, ‘‘আপনি যেখানে স্থায়ীভাবে থাকেন, সেখানেই ভোটার হিসেবে থাকা উচিত। ঢাকায় থাকবেন না, ট্যাক্সও দেবেন না, তারপরও ভোটের সময় নাম থাকবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’’

তিনি আরও বলেন, যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, এবং বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি বিশ্বাসী।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধ চলছে, তখনও তিনি মনে করেন সরকার বা নেতৃত্ব কিছু সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। সভায় তিনি সাধারণ আলোচনায় উল্লেখ করেন যে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদাহরণ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ—যেমন, অফিসে অতিরিক্ত এসি বা আলো চালু না রাখা। তিনি বিরোধীদলীদের উপরও সতর্ক করে বলেন, হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করা ঠিক হবে না।

নির্বাচনী সহায়তা হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’- নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে; কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণমওকুফের মতো উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছরের পরও ইতিহাস নিয়ে বিবাদ ও বিভ্রান্তি চলছে। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় আন্তরিক ছিলেন না—ফলে ইতিহাস বিকৃত হওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার। বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায় সিটি নির্বাচনের আগে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, শুধু তাদেরই এখানে ভোটাধিকার থাকা উচিত; অন্য জায়গা থেকে এসে ভোট দেওয়া যাবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য রাখেন তিনি।

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে আবদুস সালাম বলেন, অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই সেখানে ১৫০টির মতো ভোটার দেখায়। বাড়ির মালিকরাও জানেন না তারা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে। তিনি জোরে দাবি করেন, ‘‘আপনি যেখানে স্থায়ীভাবে থাকেন, সেখানেই ভোটার হিসেবে থাকা উচিত। ঢাকায় থাকবেন না, ট্যাক্সও দেবেন না, তারপরও ভোটের সময় নাম থাকবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’’

তিনি আরও বলেন, যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, এবং বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি বিশ্বাসী।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধ চলছে, তখনও তিনি মনে করেন সরকার বা নেতৃত্ব কিছু সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। সভায় তিনি সাধারণ আলোচনায় উল্লেখ করেন যে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদাহরণ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ—যেমন, অফিসে অতিরিক্ত এসি বা আলো চালু না রাখা। তিনি বিরোধীদলীদের উপরও সতর্ক করে বলেন, হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করা ঠিক হবে না।

নির্বাচনী সহায়তা হিসেবে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’- নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে; কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণমওকুফের মতো উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছরের পরও ইতিহাস নিয়ে বিবাদ ও বিভ্রান্তি চলছে। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় আন্তরিক ছিলেন না—ফলে ইতিহাস বিকৃত হওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার। বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।