০৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সংগীতসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে আর নেই

বিশ্ব সংগীতক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল অধ্যায় আজ শেষ হলো — কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সংবাদটি এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পুত্র আনন্দ ভোঁসলে, তিনি পরিবার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ‘‘আমার মা আমাদের আর মাঝে নেই।’’

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, আশা ভোঁসলে গত কয়েক দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁর অবস্থা অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ তিনি জীবনের যাত্রা শেষ করেন। আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য আয়োজন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ছিল এক বিস্ময়কর সফর — দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তাঁর বহুমুখী কণ্ঠ ও অভিনব ভঙ্গিতে। ১৯৪০-এর দশকে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সামনের পথে তখনই ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন দিদি লতা মঙ্গেশকর; তবুও ধৈর্য ও প্রতিভার জোরে নিজস্ব স্থান গড়ে তোলেন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সহায়তায় নাম অর্জন করতে শুরু করেন, পরে আরডি বর্মণের সঙ্গে যুগান্তকারী কাজ তাঁকে আরও সুপরিচিত করে তোলে।

ধ্রুপদী থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক চলচ্চিত্রিক পপ—সংগীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর অনবদ্য বিচরণ ছিল প্রতিভার পরিচয়। ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’—যেমন নজরকাড়া গানগুলো তিনি অনবদ্যভাবে গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করেছেন। শুধু হিন্দি নয়, বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায়ও তিনি গেয়েছেন, ফলে তাঁর কণ্ঠ বিশ্বব্যাপী অনুরাগী পেয়েছে।

সংগীত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আশা ভোঁসলে বহু সম্মাননা পান — ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, রাষ্ট্রের অন্যতম উচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড তাঁর সংগ্রহে ছিল। তাঁর প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও দেশ-বিদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আজ তিনি না থাকলেও আশা ভোঁসলে যে সুরের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন তা দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান ও কণ্ঠের জাদু তাকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সংগীতসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব সংগীতক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল অধ্যায় আজ শেষ হলো — কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সংবাদটি এনডিটিভি নিশ্চিত করেছে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পুত্র আনন্দ ভোঁসলে, তিনি পরিবার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ‘‘আমার মা আমাদের আর মাঝে নেই।’’

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, আশা ভোঁসলে গত কয়েক দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁর অবস্থা অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ তিনি জীবনের যাত্রা শেষ করেন। আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য আয়োজন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ছিল এক বিস্ময়কর সফর — দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছেন তাঁর বহুমুখী কণ্ঠ ও অভিনব ভঙ্গিতে। ১৯৪০-এর দশকে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সামনের পথে তখনই ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন দিদি লতা মঙ্গেশকর; তবুও ধৈর্য ও প্রতিভার জোরে নিজস্ব স্থান গড়ে তোলেন। ১৯৫০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সহায়তায় নাম অর্জন করতে শুরু করেন, পরে আরডি বর্মণের সঙ্গে যুগান্তকারী কাজ তাঁকে আরও সুপরিচিত করে তোলে।

ধ্রুপদী থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক চলচ্চিত্রিক পপ—সংগীতের বিভিন্ন ধারায় তাঁর অনবদ্য বিচরণ ছিল প্রতিভার পরিচয়। ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’—যেমন নজরকাড়া গানগুলো তিনি অনবদ্যভাবে গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করেছেন। শুধু হিন্দি নয়, বহু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায়ও তিনি গেয়েছেন, ফলে তাঁর কণ্ঠ বিশ্বব্যাপী অনুরাগী পেয়েছে।

সংগীত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আশা ভোঁসলে বহু সম্মাননা পান — ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, রাষ্ট্রের অন্যতম উচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড তাঁর সংগ্রহে ছিল। তাঁর প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও দেশ-বিদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আজ তিনি না থাকলেও আশা ভোঁসলে যে সুরের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন তা দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান ও কণ্ঠের জাদু তাকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে।