০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণ: রিজভী বললেন—দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে BNP-এর মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দল পরে তাকে মনোনীত না করলেও গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা দিতে আসার সময় বগুড়ার কয়েকজন নারী নেত্রী হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তারা কনকচাঁপার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন; শেষ পর্যন্ত সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।

ঘটনাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গভীর খেদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এধরণের আচরণ করেছে তাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও শিষ্টাচারে ঘাটতি রয়েছে এবং তাদের আচরণ অনুকূল নয়। রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন—সেলিব্রেটিদের রাজনীতিতে আসা কি অস্বাভাবিক, বিশ্বের কোনো দেশে কি এমন দৃষ্টান্ত আছে? তিনি যোগ করেছেন, প্রত্যেকের মাঠ পর্যায়ের ভূমিকা আলাদা; একজন সম্মানিত শিল্পীর সমর্থনও সংগঠনের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

রিজভী বলেন, ‘‘সবাইকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে এমন তো নয়। একজন বড় শিল্পী যদি দলের আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখেন, তাতেই অনেক কাজ হয়।’’ তিনি আরও বলেন, কারা এ ধরনের বাজে আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর কনকচাঁপা নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে তাঁর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে বলে অনুভব হলেও বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য এবং নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কষ্টের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি জানান, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উৎসাহে রাজনীতিতে আসা, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের কাছে লড়াই করা—সবই তার জন্য কঠিন ছিল। বহু বছর ধরে নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, মামলা-জেল, আর ব্যক্তিগতভাবে মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

কনকচাঁপা লিখেছেন, গান না পারাটা তার জন্য দারুণ কষ্টের—দেশে কোথাও গান করে উঠতে পারেননি, তাই নিজেকে সচল রাখার জন্য ছবি আঁকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও রান্নায় মনোনিবেশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তার এই দুর্দশা ও ত্যাগের কোনো স্বীকৃতি নেই কি?

এবারের নির্বাচনে তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রতিপক্ষের নেতার সম্মতিক্রমে নিজের এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন। বছরের পর বছর দলের ভেতরের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেও কোনো কারণে দল তাকে মনোনীত করেনি; সেটা তিনি মেনে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য অপরিবর্তিত রেখেছেন। তবুও মিথ্যাচার করে তাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা কেউ করলে তিনি সেটিকে দুরভিসন্ধি মনে করেন।

কনকচাঁপা বলেছেন, ‘‘দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি, নমিনেশন চাওয়া সবারই অধিকার।’’ তিনি তার ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলেও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় মহল জানাচ্ছে, কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনাকে পুনরাবৃত্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় দলের অভ্যন্তরীণ মানসিকতা ও অনুশাসন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণ: রিজভী বললেন—দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে BNP-এর মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দল পরে তাকে মনোনীত না করলেও গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা দিতে আসার সময় বগুড়ার কয়েকজন নারী নেত্রী হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তারা কনকচাঁপার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন; শেষ পর্যন্ত সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।

ঘটনাটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গভীর খেদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এধরণের আচরণ করেছে তাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও শিষ্টাচারে ঘাটতি রয়েছে এবং তাদের আচরণ অনুকূল নয়। রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন—সেলিব্রেটিদের রাজনীতিতে আসা কি অস্বাভাবিক, বিশ্বের কোনো দেশে কি এমন দৃষ্টান্ত আছে? তিনি যোগ করেছেন, প্রত্যেকের মাঠ পর্যায়ের ভূমিকা আলাদা; একজন সম্মানিত শিল্পীর সমর্থনও সংগঠনের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

রিজভী বলেন, ‘‘সবাইকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে এমন তো নয়। একজন বড় শিল্পী যদি দলের আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখেন, তাতেই অনেক কাজ হয়।’’ তিনি আরও বলেন, কারা এ ধরনের বাজে আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর কনকচাঁপা নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে তাঁর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে বলে অনুভব হলেও বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য এবং নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কষ্টের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি জানান, ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উৎসাহে রাজনীতিতে আসা, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের কাছে লড়াই করা—সবই তার জন্য কঠিন ছিল। বহু বছর ধরে নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, মামলা-জেল, আর ব্যক্তিগতভাবে মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

কনকচাঁপা লিখেছেন, গান না পারাটা তার জন্য দারুণ কষ্টের—দেশে কোথাও গান করে উঠতে পারেননি, তাই নিজেকে সচল রাখার জন্য ছবি আঁকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ও রান্নায় মনোনিবেশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তার এই দুর্দশা ও ত্যাগের কোনো স্বীকৃতি নেই কি?

এবারের নির্বাচনে তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের প্রতিপক্ষের নেতার সম্মতিক্রমে নিজের এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন। বছরের পর বছর দলের ভেতরের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেও কোনো কারণে দল তাকে মনোনীত করেনি; সেটা তিনি মেনে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য অপরিবর্তিত রেখেছেন। তবুও মিথ্যাচার করে তাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা কেউ করলে তিনি সেটিকে দুরভিসন্ধি মনে করেন।

কনকচাঁপা বলেছেন, ‘‘দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি, নমিনেশন চাওয়া সবারই অধিকার।’’ তিনি তার ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলেও দলের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় মহল জানাচ্ছে, কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনাকে পুনরাবৃত্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় দলের অভ্যন্তরীণ মানসিকতা ও অনুশাসন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।