০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী

বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন নামি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পাদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সাংসদ লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব ধরনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

উন্নয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে, যাতে বড় ও সুপরিসর বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) থেকে প্রয়োজনীয় সনদপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সুবিধা যাচাই, টেস্টিং ও কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কয়েক মাসের মধ্যে কক্সবাজার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার দলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম এর প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে লাভজনক। ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি তারা বিদেশি এয়ারলাইন্সদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে বড় অঙ্কের আয় করছে।

তবে বিমানের অভাব রয়েছে—এমন কথাও স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমান ব্যবস্থিতি ও নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন ও পুরাতনগুলো বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন বিমান কেনা না হওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন টিকেটিং ও তদারকি বাড়ানোর ফলে বিমান পরিচালনার অন টাইম পারফরম্যান্স (OTP) বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টলপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। নোয়াখালী জেলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বেবিচক (CAAB) কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর।

শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে ২০২০ ও ২০২১ সালে কেনা ড্যাশ৮-৪০০ ও বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য বিমানের কাছে নেই—এমনও জানানো হয়েছে। সব ক্রয় যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন নামি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পাদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সাংসদ লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব ধরনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

উন্নয়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে, যাতে বড় ও সুপরিসর বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) থেকে প্রয়োজনীয় সনদপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সুবিধা যাচাই, টেস্টিং ও কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কয়েক মাসের মধ্যে কক্সবাজার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার দলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম এর প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে লাভজনক। ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি তারা বিদেশি এয়ারলাইন্সদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে বড় অঙ্কের আয় করছে।

তবে বিমানের অভাব রয়েছে—এমন কথাও স্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমান ব্যবস্থিতি ও নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন ও পুরাতনগুলো বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন বিমান কেনা না হওয়া পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন টিকেটিং ও তদারকি বাড়ানোর ফলে বিমান পরিচালনার অন টাইম পারফরম্যান্স (OTP) বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টলপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। নোয়াখালী জেলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বেবিচক (CAAB) কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর।

শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে ২০২০ ও ২০২১ সালে কেনা ড্যাশ৮-৪০০ ও বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য বিমানের কাছে নেই—এমনও জানানো হয়েছে। সব ক্রয় যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।