১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতীয় সংসদের গ্যালারি সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ সংসদে প্রধানমন্ত্রী: মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অগ্রযাত্রায় অটল সংকল্প

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় বাস্তবায়িত ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বললেন, শুরুর এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা তথ্যভিত্তিকভাবে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। মাহদী আমিন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দল সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি ও গুজব ছড়ানোসহ অপ্রয়োজনীয় পথ বেছে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে; সরকার তা দূর করে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গ্রহণ করা ৬০টি পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। মূল পয়েন্টগুলো নিম্নরূপ:

1. নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে; ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে এগুলো দেওয়া হয়েছে।

2. কৃষকদের সুবিধার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা ১০ ধরনের ছাড় ও নগদ সহায়তা নিশ্চিত করবে।

3. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

4. সাংবিধানিক ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুততার সঙ্গে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

5. দেশের ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

6. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে কার্যকর নীতিমালার ফলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

7. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং নেট-মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎসে ১০,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

8. জ্বালানি সংগ্রহে ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে।

9. খরচ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে রমজান ও অন্যান্য সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

10. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের মধ্যে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

11. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে।

12. হজযাত্রার খরচ এই বছর টিকিট প্রতি প্রায় ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; প্রথমবার দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

13. সরকারি সেক্টরের শূন্যপদ সংখ্যা ৪,৬৮,২২০টি নিরূপণ করে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

14. পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্প ও কারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।

15. ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসার সঙ্গে ইকোসিস্টেম গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

16. অর্থনীতি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

17. পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮% তে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

18. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রতিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

19. ঈদ উৎসবের সময় শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে; ব্যাংকিং সহায়তা দিয়ে শিল্পকারখানার কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।

20. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

21. ইউরোপের সাত দেশে (সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

22. বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দক্ষ ও অপ্রতিষ্ঠিত শ্রমিক রপ্তানি বাড়ানোর নীতি নেওয়া হয়েছে।

23. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

24. পে-পাল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

25. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; নিয়োগে ৮০% নারী হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

26. সুনির্দিষ্ট ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু ও হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

27. বারবার ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে এবং শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

28. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

29. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

30. স্কুল-মাঠ উন্মুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, উপজেলা পর্যায়ে খেলায় শিক্ষক নিয়োগ ও মহানগরে উন্মুক্ত মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

31. ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত সংযুক্ত করা হয়েছে; জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পাঠকপ্রবণতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

32. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পাইলট শুরু হয়েছে এবং শিক্ষাক্রমে কারিগরি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংযোজন করা হচ্ছে।

33. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

34. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

35. আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে; বর্ষা মৌসুমে রোপণের প্রস্তুতি চলছে।

36. রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের নিজ বাসভবন ও নিজ গাড়ি ব্যবহার করছেন; ব্যক্তিগত তেল খরচ বহন করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

37. সরকারি অফিসে কর্মসুচি ও সময়নিষ্ঠা জোরদার করা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, সকাল ৯টার মধ্যে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

38. সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করে নগদ লেনদেন সীমিত করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল ম্যাপিং পাইলটের মাধ্যমে নকশা জালিয়াতি বন্ধের চেষ্টা চলছে; ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

39. পদ্মা অববাহিকার কৃষি এলাকা মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।

40. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে।

41. পাটজাত পণ্যের ব্যবহার প্রসারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিসে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

42. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

43. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে; দ্রুত সারাদেশে টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

44. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; জনবান্ধব পুলিশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

45. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস ও নারীদের জন্য নিরাপদ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

46. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে; নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

47. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত রাখা ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

48. প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা হচ্ছে।

49. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান আগামী মাসে।

50. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

51. সরকারের লক্ষ্য একটি উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ, যেখানে মত প্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম ও চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা পাবে—গত দুই মাসে সেই নীতিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

52. হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

53. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; সৈয়দপুর সদস্য বিমানবন্দরে সেবা উদ্বোধন করা হয়েছে।

54. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে হাজারো স্থলে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

55. অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাসীদের কল্যাণ, দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

56. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা ও উন্নত করার কাজ চলছে—সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাসহ বহু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনা বাড়ানো হচ্ছে।

57. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

58. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

59. মানবাধিকার সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে এবং BNP-র ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সাথে মিল রেখে এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

60. সার্বিকভাবে, সরকার অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করা প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জনগণের কল্যাণে দ্রুত ও দৃঢ় শাসন প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান যে, সব স্তরে সহযোগিতা ও তথ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করলে এগুলো আরও সুফল বয়ে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশাব্যঞ্জক এই ফলাফলগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে প্রধানমন্ত্রী: মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অগ্রযাত্রায় অটল সংকল্প

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় বাস্তবায়িত ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বললেন, শুরুর এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা তথ্যভিত্তিকভাবে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। মাহদী আমিন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দল সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি ও গুজব ছড়ানোসহ অপ্রয়োজনীয় পথ বেছে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে; সরকার তা দূর করে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গ্রহণ করা ৬০টি পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। মূল পয়েন্টগুলো নিম্নরূপ:

1. নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে; ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে এগুলো দেওয়া হয়েছে।

2. কৃষকদের সুবিধার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা ১০ ধরনের ছাড় ও নগদ সহায়তা নিশ্চিত করবে।

3. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

4. সাংবিধানিক ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুততার সঙ্গে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

5. দেশের ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

6. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে কার্যকর নীতিমালার ফলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

7. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এবং নেট-মিটারিং-এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎসে ১০,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

8. জ্বালানি সংগ্রহে ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে।

9. খরচ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে রমজান ও অন্যান্য সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

10. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের মধ্যে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

11. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে।

12. হজযাত্রার খরচ এই বছর টিকিট প্রতি প্রায় ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; প্রথমবার দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

13. সরকারি সেক্টরের শূন্যপদ সংখ্যা ৪,৬৮,২২০টি নিরূপণ করে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

14. পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্প ও কারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।

15. ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসার সঙ্গে ইকোসিস্টেম গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

16. অর্থনীতি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

17. পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮% তে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

18. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রতিলোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

19. ঈদ উৎসবের সময় শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে; ব্যাংকিং সহায়তা দিয়ে শিল্পকারখানার কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।

20. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

21. ইউরোপের সাত দেশে (সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

22. বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দক্ষ ও অপ্রতিষ্ঠিত শ্রমিক রপ্তানি বাড়ানোর নীতি নেওয়া হয়েছে।

23. উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

24. পে-পাল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

25. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; নিয়োগে ৮০% নারী হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

26. সুনির্দিষ্ট ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু ও হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

27. বারবার ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে এবং শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

28. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

29. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

30. স্কুল-মাঠ উন্মুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, উপজেলা পর্যায়ে খেলায় শিক্ষক নিয়োগ ও মহানগরে উন্মুক্ত মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

31. ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত সংযুক্ত করা হয়েছে; জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পাঠকপ্রবণতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

32. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পাইলট শুরু হয়েছে এবং শিক্ষাক্রমে কারিগরি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংযোজন করা হচ্ছে।

33. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

34. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস অ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু করে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

35. আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে; বর্ষা মৌসুমে রোপণের প্রস্তুতি চলছে।

36. রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের নিজ বাসভবন ও নিজ গাড়ি ব্যবহার করছেন; ব্যক্তিগত তেল খরচ বহন করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

37. সরকারি অফিসে কর্মসুচি ও সময়নিষ্ঠা জোরদার করা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, সকাল ৯টার মধ্যে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

38. সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করে নগদ লেনদেন সীমিত করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল ম্যাপিং পাইলটের মাধ্যমে নকশা জালিয়াতি বন্ধের চেষ্টা চলছে; ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

39. পদ্মা অববাহিকার কৃষি এলাকা মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।

40. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে।

41. পাটজাত পণ্যের ব্যবহার প্রসারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিসে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

42. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

43. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে; দ্রুত সারাদেশে টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

44. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; জনবান্ধব পুলিশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

45. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস ও নারীদের জন্য নিরাপদ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

46. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে; নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

47. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত রাখা ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

48. প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা হচ্ছে।

49. দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান আগামী মাসে।

50. ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

51. সরকারের লক্ষ্য একটি উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ, যেখানে মত প্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম ও চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা পাবে—গত দুই মাসে সেই নীতিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

52. হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

53. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; সৈয়দপুর সদস্য বিমানবন্দরে সেবা উদ্বোধন করা হয়েছে।

54. চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে হাজারো স্থলে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

55. অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাসীদের কল্যাণ, দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

56. পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা ও উন্নত করার কাজ চলছে—সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষাসহ বহু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনা বাড়ানো হচ্ছে।

57. বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

58. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

59. মানবাধিকার সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে এবং BNP-র ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সাথে মিল রেখে এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

60. সার্বিকভাবে, সরকার অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করা প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জনগণের কল্যাণে দ্রুত ও দৃঢ় শাসন প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান যে, সব স্তরে সহযোগিতা ও তথ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করলে এগুলো আরও সুফল বয়ে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশাব্যঞ্জক এই ফলাফলগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।