০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এনসিপি-যোগী বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা, প্রজ্ঞাপন জারি বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং ঘোষণা দ্বিতীয় তেল শোধনাগার জরুরি: সেনাপ্রধান জাতীয় সংসদের গ্যালারি সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ সংসদে প্রধানমন্ত্রী: মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন

প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকার দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব পদক্ষেপের বিবরণ দেন। মাহদী আমিন জানান, সরকারের ইতিবাচক কাজগুলো সামনে দিনগুলেও অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও তথ্যভিত্তিকভাবে প্রচারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, কিছু বিরোধীচর্চা থাকলেও সরকার দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা দূর করে এগোবার দৃঢ় সংকল্পে অটল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ৬০টি প্রধান উদ্যোগ নিচে সারসংক্ষেপে দেয়া হলো—

১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

২. কৃষকদের জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।

৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

৮. জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৯. পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; প্রতিকূল আর্থিক পরিবেশে রমজান ও পরবর্তীকালে দ্রব্যমূল্য শাসন সম্ভব হয়েছে।

১০. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১. প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১২. হজযাত্রার খরচ গত বছরের তুলনায় টিকেট প্রতি ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; দেশের মাটিতে প্রথমবার ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১৩. সরকারি মন্ত্রণালয় ও অফিসে মোট শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি চিহ্নিত করা হয়েছে; শূন্যপদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৪. বন্ধ থাকা সরকারি কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্পকে অগ্রগণ্য রাখা হয়েছে।

১৫. স্বল্পব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা ও হাই-টেক পার্কে সম্ভাবনাময় ব্যবসা এবং স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

১৬. দেশকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি।

১৭. আগামী পাঁচ বছরের জন্য কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবজিডিপি বৃদ্ধিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি কমানো, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

১৮. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯. শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেঈদের আগেই সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২১. ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে (সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া) — বিকল্প শ্রমবাজার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২২. বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী রপ্তানিতে জোর দিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

২৩. উত্তরবাংলাকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র হিসেবে গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২৪. পে-পালসহ বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে চালুর প্রস্তুতি চলছে।

২৫. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে; এ নিয়োগে নারী অংশগ্রহণকে ৮০ শতাংশ রাখা হবে।

২৬. গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

২৭. শিক্ষাব্যবস্থায় সহায়ক পদক্ষেপ—বার্ষিক ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৮. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ খুলে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধলার সুযোগ বৃদ্ধি, উপজেলা পর্যায়ে খেলায় শিক্ষক নিয়োগ (প্রতিটি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন) এবং মহানগরীতে উন্মুক্ত খেলার মাঠ সংস্থান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে।

৩১. শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াতও সংযুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দ এবং বইপড়া উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

৩২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলট প্রকল্পও শুরু হয়েছে। পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাব্যবস্থা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৩৩. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স সংযোজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

৩৪. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস এলাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে; ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদ ভাতা পাচ্ছেন।

৩৫. পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে; প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ চারাগাছ উৎপাদিত হয়েছে যা আসন্ন বর্ষায় রোপণ করা হবে।

৩৬. রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবহারের স্থলে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত বাসভবন ও নিজ গাড়ি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর অফিস সপ্তাহান্তেও কার্যক্রম চালু; সরকারি দফতরে কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে; ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করে সাধারণ চলাচলে স্বচ্ছতা এনেছে এবং রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা হ্রাস করা হয়েছে।

৩৮. লেনদেন ও সেবায় দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নকশা জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল সার্ভিসের পাইলট চালানো হচ্ছে এবং ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

৩৯. পদ্মা অববাহিকার কৃষিক্ষেত্রকে মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির নিশ্চয়তা দিতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে।

৪০. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাবে।

৪১. বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্য ব্যবহার বাড়াতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪২. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্থানীয় প্রশাসন-কমিউনিটির সমন্বয়ে কার্যক্রম চলছে।

৪৩. দীর্ঘদিন পর হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে; দ্রুত সর্বত্র টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছে সরকার।

৪৪. চাঁদাবাজিগত কর্মকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে; জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪৫. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু ও নারীদের জন্য নিরাপদ পিংক বাস সার্ভিস শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৪৬. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইনে সংশোধন খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে; নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করে কড়া শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

৪৭. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪৮. শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনের নিয়োগের জন্য পরীক্ষামূলক পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

৪৯. একমাত্র সরকারি তেলশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

৫০. ফুটপাত বণিকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫১. সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম ও চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

৫২. বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫৩. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দরগুলোতে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এ সুবিধা উদ্বোধন করা হয়েছে।

৫৪. চলন্ত ট্রেনেও যাত্রী সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াইফাই স্থাপন করা হবে।

৫৫. প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিতে কূটনীতি শক্তিশালী করা হচ্ছে—দূতাবাস ও মিশনগুলোকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জনশক্তি রপ্তানির প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৫৬. বিশ্বব্যাপী সম্পর্ক গড়তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে কূটনৈতিক মৈত্রীর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সহ দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দ্বার খোলা হচ্ছে।

৫৭. বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

৫৮. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৫৯. মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন—দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে গত দুই মাসে মানবাধিকার রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য ছিল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৬০. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এগিয়ে নিয়েও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তথ্যভিত্তিকভাবে সরকারের কাজ উপস্থাপন করে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুদ্ধ তথ্য পৌঁছে দেবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা, প্রজ্ঞাপন জারি

প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকার দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব পদক্ষেপের বিবরণ দেন। মাহদী আমিন জানান, সরকারের ইতিবাচক কাজগুলো সামনে দিনগুলেও অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও তথ্যভিত্তিকভাবে প্রচারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, কিছু বিরোধীচর্চা থাকলেও সরকার দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা দূর করে এগোবার দৃঢ় সংকল্পে অটল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ৬০টি প্রধান উদ্যোগ নিচে সারসংক্ষেপে দেয়া হলো—

১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

২. কৃষকদের জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।

৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

৫. সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

৮. জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৯. পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; প্রতিকূল আর্থিক পরিবেশে রমজান ও পরবর্তীকালে দ্রব্যমূল্য শাসন সম্ভব হয়েছে।

১০. ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১. প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১২. হজযাত্রার খরচ গত বছরের তুলনায় টিকেট প্রতি ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; দেশের মাটিতে প্রথমবার ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১৩. সরকারি মন্ত্রণালয় ও অফিসে মোট শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি চিহ্নিত করা হয়েছে; শূন্যপদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৪. বন্ধ থাকা সরকারি কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্পকে অগ্রগণ্য রাখা হয়েছে।

১৫. স্বল্পব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা ও হাই-টেক পার্কে সম্ভাবনাময় ব্যবসা এবং স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

১৬. দেশকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি।

১৭. আগামী পাঁচ বছরের জন্য কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবজিডিপি বৃদ্ধিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি কমানো, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

১৮. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৯. শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেঈদের আগেই সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০. মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো খুলছে; দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২১. ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে (সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া) — বিকল্প শ্রমবাজার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২২. বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী রপ্তানিতে জোর দিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

২৩. উত্তরবাংলাকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র হিসেবে গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২৪. পে-পালসহ বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে চালুর প্রস্তুতি চলছে।

২৫. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে; এ নিয়োগে নারী অংশগ্রহণকে ৮০ শতাংশ রাখা হবে।

২৬. গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

২৭. শিক্ষাব্যবস্থায় সহায়ক পদক্ষেপ—বার্ষিক ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৮. বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ খুলে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধলার সুযোগ বৃদ্ধি, উপজেলা পর্যায়ে খেলায় শিক্ষক নিয়োগ (প্রতিটি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন) এবং মহানগরীতে উন্মুক্ত খেলার মাঠ সংস্থান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে।

৩১. শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু হয়েছে; এবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াতও সংযুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দ এবং বইপড়া উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

৩২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম চলছে; ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ পাইলট প্রকল্পও শুরু হয়েছে। পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাব্যবস্থা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৩৩. মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স সংযোজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

৩৪. স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস এলাউন্স কর্মসূচি চালু করা হয়েছে; ইতোমধ্যে শতাধিক ক্রীড়াবিদ ভাতা পাচ্ছেন।

৩৫. পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে; প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ চারাগাছ উৎপাদিত হয়েছে যা আসন্ন বর্ষায় রোপণ করা হবে।

৩৬. রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবহারের স্থলে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত বাসভবন ও নিজ গাড়ি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

৩৭. প্রধানমন্ত্রীর অফিস সপ্তাহান্তেও কার্যক্রম চালু; সরকারি দফতরে কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে; ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করে সাধারণ চলাচলে স্বচ্ছতা এনেছে এবং রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা হ্রাস করা হয়েছে।

৩৮. লেনদেন ও সেবায় দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নকশা জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল সার্ভিসের পাইলট চালানো হচ্ছে এবং ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

৩৯. পদ্মা অববাহিকার কৃষিক্ষেত্রকে মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির নিশ্চয়তা দিতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে।

৪০. এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাবে।

৪১. বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্য ব্যবহার বাড়াতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪২. ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্থানীয় প্রশাসন-কমিউনিটির সমন্বয়ে কার্যক্রম চলছে।

৪৩. দীর্ঘদিন পর হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে; দ্রুত সর্বত্র টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখছে সরকার।

৪৪. চাঁদাবাজিগত কর্মকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে; জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪৫. ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু ও নারীদের জন্য নিরাপদ পিংক বাস সার্ভিস শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৪৬. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইনে সংশোধন খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে; নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করে কড়া শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

৪৭. বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা হয়েছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪৮. শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো এনটিআরসি-র মাধ্যমে বিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনের নিয়োগের জন্য পরীক্ষামূলক পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

৪৯. একমাত্র সরকারি তেলশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

৫০. ফুটপাত বণিকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫১. সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম ও চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

৫২. বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৫৩. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দরগুলোতে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে; সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এ সুবিধা উদ্বোধন করা হয়েছে।

৫৪. চলন্ত ট্রেনেও যাত্রী সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াইফাই স্থাপন করা হবে।

৫৫. প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিতে কূটনীতি শক্তিশালী করা হচ্ছে—দূতাবাস ও মিশনগুলোকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জনশক্তি রপ্তানির প্রচারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৫৬. বিশ্বব্যাপী সম্পর্ক গড়তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে কূটনৈতিক মৈত্রীর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সহ দ্বিপক্ষীয় সম্ভাবনার দ্বার খোলা হচ্ছে।

৫৭. বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

৫৮. উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৫৯. মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন—দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে গত দুই মাসে মানবাধিকার রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য ছিল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৬০. মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেছেন যে এগিয়ে নিয়েও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তথ্যভিত্তিকভাবে সরকারের কাজ উপস্থাপন করে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শুদ্ধ তথ্য পৌঁছে দেবেন।