১২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যার শঙ্কা রোসাটম মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য ময়মনসিংহ-সিলেটে রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় ৬০–৮০ কিমিতে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন প্রার্থীর বৈধতা ঘোষণা, তালিকা প্রকাশ নিপীড়িতদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন আইনমন্ত্রী অপতথ্য প্রতিরোধে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে একদিনে রেকর্ড ১,৫৬৪ ভর্তি একদিনে ১৫ প্রতিষ্ঠানেই নতুন চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক নিয়োগ

১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন যে আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কঠোর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কোনো ছাড় থাকবে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে আবাসিক ভবন বা রেস্তোরাঁর আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চালানোর বিষয়টি তুলে ধরেন; এর প্রেক্ষিতেই মন্ত্রী অভিযান শুরুর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ থেকে মাদক ও জুয়ার অপবাদকে নির্মূল করা হবে। সংসদের চলমান অধিবেশন ৩০ এপ্রিল শেষ হলে আমরা আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে সুসমন্বিত অভিযান শুরু করব—এটি যুবসমাজকে রক্ষার জন্য অপরিহার্য।’’

সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন যে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের সময়ে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং কয়েক দফা টার্গেটেড রেইডে বড় পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে—বিশেষ করে গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানকে আরও কার্যকর করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কেউ ঠিকানা বদলে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালাতে না পারে। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য যদি এগুলোতে সহায়তা করে বা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহু সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, জানান মন্ত্রী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের কার্যক্রম চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আশ্বস্ত করেন যে ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশগ্রহণ করবে এবং গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যার শঙ্কা

১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ ০৭:২৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন যে আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কঠোর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে এবং কোনো ছাড় থাকবে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে আবাসিক ভবন বা রেস্তোরাঁর আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চালানোর বিষয়টি তুলে ধরেন; এর প্রেক্ষিতেই মন্ত্রী অভিযান শুরুর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ থেকে মাদক ও জুয়ার অপবাদকে নির্মূল করা হবে। সংসদের চলমান অধিবেশন ৩০ এপ্রিল শেষ হলে আমরা আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে সুসমন্বিত অভিযান শুরু করব—এটি যুবসমাজকে রক্ষার জন্য অপরিহার্য।’’

সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন যে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের সময়ে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং কয়েক দফা টার্গেটেড রেইডে বড় পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে—বিশেষ করে গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানকে আরও কার্যকর করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কেউ ঠিকানা বদলে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালাতে না পারে। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য যদি এগুলোতে সহায়তা করে বা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহু সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, জানান মন্ত্রী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের কার্যক্রম চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আশ্বস্ত করেন যে ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশগ্রহণ করবে এবং গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।