১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জেল খাটার কৌতূহলে ১১ বছরের শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ কিশোর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফুল বিক্রেতা সুমনের ১১ বছরের ছেলে হোসাইনের হত্যা মামলায় পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর কারণ পেয়েছে—গ্রেপ্তার ছয় কিশোর কেবল ‘‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা’’ জানার কৌতূহল থেকেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হত্যায় অভিযুক্তদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ১৮ এপ্রিল ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ওই শিশু নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর শুক্রবার ফতুল্লা রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এসপি মিজানুর জানান, নিখোঁজের দিন সকালে হোসাইনকে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে থেকে ডেকে এনে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছয়জন মিলে তাকে বহুতক্ষণ ধরে আটকে রেখে চাকু দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে। পুলিশের ব্যাখ্যায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই মাদকাসক্ত এবং জেলের অভিজ্ঞতা কেমন হয় তা জানার কৌতূহল থেকেই তারা এমন পরিকল্পনা করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত নির্দিষ্ট কোনো পুরনো বিবাদ ছাড়াই হোসাইন ওই দিন সেই পথে যাচ্ছিল।

হত্যার পর তারা লাশ ফেলে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজ রাখতে একজনকে জানিয়ে রাখে। পরে ময়নাতদন্ত-সহ অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলে ১৮ বছরের এক কিশোর পুরো ঘটনাটিই পুলিশকে জানায়।

পুলিশ বলছে, গত রোববার দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনিও তাদের স্থায়ী ঠিকানা বিভিন্ন জেলায় হলেও পরিবারের সঙ্গে ফতুল্লায় ভাড়াবাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় এখনও একজন পলাতক রয়েছে বলে এসপি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের লাশের পাশে পরিত্যক্ত ভবনের ময়লার স্তূপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে—এটি গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তাসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদীও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জেল খাটার কৌতূহলে ১১ বছরের শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ কিশোর

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফুল বিক্রেতা সুমনের ১১ বছরের ছেলে হোসাইনের হত্যা মামলায় পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর কারণ পেয়েছে—গ্রেপ্তার ছয় কিশোর কেবল ‘‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা’’ জানার কৌতূহল থেকেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হত্যায় অভিযুক্তদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ১৮ এপ্রিল ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ওই শিশু নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর শুক্রবার ফতুল্লা রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এসপি মিজানুর জানান, নিখোঁজের দিন সকালে হোসাইনকে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে থেকে ডেকে এনে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নেয়া হয়েছিল। সেখানে ছয়জন মিলে তাকে বহুতক্ষণ ধরে আটকে রেখে চাকু দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করে। পুলিশের ব্যাখ্যায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই মাদকাসক্ত এবং জেলের অভিজ্ঞতা কেমন হয় তা জানার কৌতূহল থেকেই তারা এমন পরিকল্পনা করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত নির্দিষ্ট কোনো পুরনো বিবাদ ছাড়াই হোসাইন ওই দিন সেই পথে যাচ্ছিল।

হত্যার পর তারা লাশ ফেলে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজ রাখতে একজনকে জানিয়ে রাখে। পরে ময়নাতদন্ত-সহ অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলে ১৮ বছরের এক কিশোর পুরো ঘটনাটিই পুলিশকে জানায়।

পুলিশ বলছে, গত রোববার দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনিও তাদের স্থায়ী ঠিকানা বিভিন্ন জেলায় হলেও পরিবারের সঙ্গে ফতুল্লায় ভাড়াবাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় এখনও একজন পলাতক রয়েছে বলে এসপি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের লাশের পাশে পরিত্যক্ত ভবনের ময়লার স্তূপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে—এটি গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) তাসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদীও উপস্থিত ছিলেন।