১০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই (এক্সপ্যান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন) কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত।

বুধবার, ৬ মে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ ডোজ এমআর এবং ৯০,০০০ ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে শিশু ও নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১২টি প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে কাজ করা হচ্ছে। ইপিআই আজ বিশ্বব্যাপী একটি সফল কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃত এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘Vaccine Hero’ হিসেবে সম্মানিত করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটি যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ইপিআই বছরের পর বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু রোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা ওপেন টেন্ডার বাতিল করে ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ করেন। সরকার দ্রুত প্রয়োজনে টাকা ছাড় করে ইউনিসেফকে প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছে।

টিকাদান কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিয়মিত টিকাদান ছাড়াও যে কোনো রোগ-প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বিশেষ ক্যাম্পেইন করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম-রুবেলা (হাম ও রুবেলা) প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ চলছে। ইউনিসেফের সহায়তায় এই ক্যাম্পেইনটি নির্ধারিত সময়ের (১৯ এপ্রিল) চেয়ে দ্রুততা দেখিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করা সম্ভব হয়েছে; এ জন্য তিনি রানা ফ্লাওয়ার্সকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে হস্তান্তর করেছে, যার মাধ্যমে ১০ প্রকার ভ্যাকসিন মিলিয়ে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের অর্থপ্রাপ্তি ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হওয়ায়, ইউনিসেফ ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রথম চালানে ১,৫০৫,০০০ ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ, ৬ মে, ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ ডোজ এমআর এবং ৯০,০০০ ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং ওপেন টেন্ডার বাতিল করার পর বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমেই সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে; এ প্রক্রিও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু হবে।

মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দেশের পর্যাপ্ত স্টক দুবছর পর্যন্ত আছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই (এক্সপ্যান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন) কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত।

বুধবার, ৬ মে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ ডোজ এমআর এবং ৯০,০০০ ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে শিশু ও নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১২টি প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে কাজ করা হচ্ছে। ইপিআই আজ বিশ্বব্যাপী একটি সফল কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃত এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘Vaccine Hero’ হিসেবে সম্মানিত করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একটি যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ইপিআই বছরের পর বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু রোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা ওপেন টেন্ডার বাতিল করে ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ করেন। সরকার দ্রুত প্রয়োজনে টাকা ছাড় করে ইউনিসেফকে প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছে।

টিকাদান কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিয়মিত টিকাদান ছাড়াও যে কোনো রোগ-প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বিশেষ ক্যাম্পেইন করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম-রুবেলা (হাম ও রুবেলা) প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ চলছে। ইউনিসেফের সহায়তায় এই ক্যাম্পেইনটি নির্ধারিত সময়ের (১৯ এপ্রিল) চেয়ে দ্রুততা দেখিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করা সম্ভব হয়েছে; এ জন্য তিনি রানা ফ্লাওয়ার্সকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে হস্তান্তর করেছে, যার মাধ্যমে ১০ প্রকার ভ্যাকসিন মিলিয়ে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের অর্থপ্রাপ্তি ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হওয়ায়, ইউনিসেফ ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রথম চালানে ১,৫০৫,০০০ ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ, ৬ মে, ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লক্ষ ডোজ এমআর এবং ৯০,০০০ ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং ওপেন টেন্ডার বাতিল করার পর বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমেই সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে; এ প্রক্রিও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু হবে।

মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দেশের পর্যাপ্ত স্টক দুবছর পর্যন্ত আছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না।