১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪০ বছর পর কানে ফিরছে জন আব্রাহামের ক্লাসিক ‘আম্মা আরিয়ান’

মুক্তির প্রায় চার দশক পর জন আব্রাহামের কালজয়ী মালয়ালম রাজনৈতিক ছবি ‘আম্মা আরিয়ান’ (মাকে খবর দাও) ফের কানের প্রদর্শনীতে জায়গা পেল। আগামী ১২ মে শুরু হওয়া ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি উৎসবের বিশেষ ধ্রুপদী বিভাগে প্রদর্শিত হবে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (এফএইচএফ) ছবিটি অতি আধুনিক ৪কে (4K) রেজোলিউশনে পুনরুদ্ধার করেছে এবং এবারের উৎসবে এটি ভারতের একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এফএইচএফ-এর জন্য এটি কানে টানা পঞ্চম বছরের অংশগ্রহণ।

চলচ্চিত্রটি ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় এবং সত্তরের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত। গল্পের শুরু একজন তরুণ নকশালের মৃত্যু থেকে; তাঁর কয়েকজন বন্ধু ওয়ায়ানাদের উত্তর পাহাড় থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোচি পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেবলমাত্র তাঁর মাকে এই দুঃসংবাদ পৌঁছে দিতে শুরু করে—একটি রাজনৈতিক মোহভঙ্গ ও প্রতিরোধের আবেগঘন অভিযান। এই অনন্য আখ্যান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে এবং ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) একে সর্বকালের সেরা দশটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকাভুক্ত করেছে।

জন আব্রাহামকে ভারতের সিনেমায় এক বিপ্লবী কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘আম্মা আরিয়ান’ ছিল তার পরিচালিত শেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজ; ১৯৮৭ সালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার সিনেমাটিক ভিশন থেমে যায়। প্রচলিত বাণিজ্যিক নির্মাণ-কৌশলকে অস্বীকার করে তিনি নিজের এক অকৃত্রিম ও সমষ্টিগত চলচ্চিত্রশৈলী গড়ে তোলেন। ছবিটি ‘ওডেসা কালেক্টিভ’ নামে একটি জনসমর্থিত চলচ্চিত্রপ্রেমী দলের মাধ্যমে প্রযোজিত হয়েছিল, যারা মূলত সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করে কাজ করতেন।

পুনরুদ্ধারের কাজটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। ২০২৩ সালে যখন কাজ শুরু করা হয়, তখন দেখা যায় ছবিটির কোনো মানসম্মত কপি অবশিষ্ট নেই। ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ থেকে পাওয়া দুটি ৩৫ মিমি প্রিন্ট গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল—অনেক আঁচড় ও দৃশ্যগত ক্ষতি ছিল। বোলোগনা এবং চেন্নাইয়ের ল্যাবে চলচ্চিত্রটির রিস্টোরেশন করা হয়েছে; বিশেষ করে শব্দ পুনর্গঠনে প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ছবির মূল মেজাজ রক্ষা করতে নির্মাতার সময়কার চিত্রগ্রাহক ও সম্পাদক সরাসরি এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার তদারকি করেছেন।

মহাসমাজে পরিবেশিত ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আম্মা আরিয়ান’ কখনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসার কথা মাথায় রেখে নির্মিত হয়নি; এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি জনপদে পৌঁছে সাধারণ মানুষের কাছে সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বিশেষ করে কানে এই ছবিটির পুনরায় প্রদর্শনী বিকল্প ধারার ভারতীয় সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কানে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালকসহ ছবির প্রধান অভিনেতা ও কারিগরি দল উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৪০ বছর পর কানে ফিরছে জন আব্রাহামের ক্লাসিক ‘আম্মা আরিয়ান’

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মুক্তির প্রায় চার দশক পর জন আব্রাহামের কালজয়ী মালয়ালম রাজনৈতিক ছবি ‘আম্মা আরিয়ান’ (মাকে খবর দাও) ফের কানের প্রদর্শনীতে জায়গা পেল। আগামী ১২ মে শুরু হওয়া ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি উৎসবের বিশেষ ধ্রুপদী বিভাগে প্রদর্শিত হবে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (এফএইচএফ) ছবিটি অতি আধুনিক ৪কে (4K) রেজোলিউশনে পুনরুদ্ধার করেছে এবং এবারের উৎসবে এটি ভারতের একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এফএইচএফ-এর জন্য এটি কানে টানা পঞ্চম বছরের অংশগ্রহণ।

চলচ্চিত্রটি ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় এবং সত্তরের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত। গল্পের শুরু একজন তরুণ নকশালের মৃত্যু থেকে; তাঁর কয়েকজন বন্ধু ওয়ায়ানাদের উত্তর পাহাড় থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোচি পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেবলমাত্র তাঁর মাকে এই দুঃসংবাদ পৌঁছে দিতে শুরু করে—একটি রাজনৈতিক মোহভঙ্গ ও প্রতিরোধের আবেগঘন অভিযান। এই অনন্য আখ্যান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে এবং ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) একে সর্বকালের সেরা দশটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকাভুক্ত করেছে।

জন আব্রাহামকে ভারতের সিনেমায় এক বিপ্লবী কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘আম্মা আরিয়ান’ ছিল তার পরিচালিত শেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজ; ১৯৮৭ সালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার সিনেমাটিক ভিশন থেমে যায়। প্রচলিত বাণিজ্যিক নির্মাণ-কৌশলকে অস্বীকার করে তিনি নিজের এক অকৃত্রিম ও সমষ্টিগত চলচ্চিত্রশৈলী গড়ে তোলেন। ছবিটি ‘ওডেসা কালেক্টিভ’ নামে একটি জনসমর্থিত চলচ্চিত্রপ্রেমী দলের মাধ্যমে প্রযোজিত হয়েছিল, যারা মূলত সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করে কাজ করতেন।

পুনরুদ্ধারের কাজটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। ২০২৩ সালে যখন কাজ শুরু করা হয়, তখন দেখা যায় ছবিটির কোনো মানসম্মত কপি অবশিষ্ট নেই। ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ থেকে পাওয়া দুটি ৩৫ মিমি প্রিন্ট গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল—অনেক আঁচড় ও দৃশ্যগত ক্ষতি ছিল। বোলোগনা এবং চেন্নাইয়ের ল্যাবে চলচ্চিত্রটির রিস্টোরেশন করা হয়েছে; বিশেষ করে শব্দ পুনর্গঠনে প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ছবির মূল মেজাজ রক্ষা করতে নির্মাতার সময়কার চিত্রগ্রাহক ও সম্পাদক সরাসরি এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার তদারকি করেছেন।

মহাসমাজে পরিবেশিত ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আম্মা আরিয়ান’ কখনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসার কথা মাথায় রেখে নির্মিত হয়নি; এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি জনপদে পৌঁছে সাধারণ মানুষের কাছে সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বিশেষ করে কানে এই ছবিটির পুনরায় প্রদর্শনী বিকল্প ধারার ভারতীয় সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কানে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালকসহ ছবির প্রধান অভিনেতা ও কারিগরি দল উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।