১২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে হামে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সড়ক, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ’ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দিল ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি শিল্পমন্ত্রী: বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল দ্রুত পুনঃচালুর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

বিনিয়োগ আকর্ষণে করপোরেট কর ২০% করার সুপারিশ

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও ব্যবসায়িক পরিবেশ বিশ্বমানেগত করার লক্ষ্যে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু অনুধাবনী সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রস্তাবে করপোরেট কর হার দশকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি করা হয়েছে—যার ফলে দেশে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সংগঠনটি দেখছে।

রোববার রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট সুপারিশগুলো উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তারেক রফিক ভূইয়া এবং বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান অটোমোবাইল খাতে সম্ভাবনা চিহ্নিত করে বলেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে বছরে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব। তিনি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারের কার্যকর নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দেন।

জেবিসিসিআই-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বাংলাদেশের কর কাঠামোকে আরও সরল ও যুক্তিসঙ্গত করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে করপোরেট কর সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকায় বাংলাদেশ ২০ শতাংশ নির্ধারণ করলে বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক সুবিধা হবে বলে তারা মনে করছে।

কেবল করপোরেট কর নয়, সংগঠনটি উৎসে কর (টিডিএস) হ্রাস করারও দাবি তুলেছে। তাদের হিসাব মতে অতিরিক্ত টিডিএস ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলছে এবং তা উৎপাদনব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে—প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮-১২ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছে।

ভ্যাট ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে। জেবিসিসিআই দ্রুত একটি স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট রিফান্ড পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিচ্ছে; বর্তমানে রিফান্ড পেতে যে দেরি হয়, তা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে ৩০–৪৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা যাবে বলে তারা আশা করছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও ঔষধ খাতকে রপ্তানিমুখী হিসেবে ধরেই জেবিসিসিআই এই খাতগুলোর জন্য শুল্ক ছাড় ও প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলেছে, যাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও বাড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একমাত্র স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব কাঠামো থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে পুনরায় উল্লেখ করেন। কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করলে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে—এটাই তাদের মূল তর্ক।

সমাপনী বক্তব্যে জেবিসিসিআই-এর পরিচালক মনাবু সুগাওয়ারা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সঠিক নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী বাজেটে এই বাস্তবমুখী সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে এবং মূল্যবান কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ঘটবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও বলীয়ান করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বিনিয়োগ আকর্ষণে করপোরেট কর ২০% করার সুপারিশ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও ব্যবসায়িক পরিবেশ বিশ্বমানেগত করার লক্ষ্যে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু অনুধাবনী সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রস্তাবে করপোরেট কর হার দশকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি করা হয়েছে—যার ফলে দেশে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সংগঠনটি দেখছে।

রোববার রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট সুপারিশগুলো উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তারেক রফিক ভূইয়া এবং বিস্তারিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান অটোমোবাইল খাতে সম্ভাবনা চিহ্নিত করে বলেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে বছরে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব। তিনি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারের কার্যকর নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দেন।

জেবিসিসিআই-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বাংলাদেশের কর কাঠামোকে আরও সরল ও যুক্তিসঙ্গত করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে করপোরেট কর সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকায় বাংলাদেশ ২০ শতাংশ নির্ধারণ করলে বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক সুবিধা হবে বলে তারা মনে করছে।

কেবল করপোরেট কর নয়, সংগঠনটি উৎসে কর (টিডিএস) হ্রাস করারও দাবি তুলেছে। তাদের হিসাব মতে অতিরিক্ত টিডিএস ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলছে এবং তা উৎপাদনব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে—প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮-১২ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছে।

ভ্যাট ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে। জেবিসিসিআই দ্রুত একটি স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট রিফান্ড পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিচ্ছে; বর্তমানে রিফান্ড পেতে যে দেরি হয়, তা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে ৩০–৪৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা যাবে বলে তারা আশা করছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও ঔষধ খাতকে রপ্তানিমুখী হিসেবে ধরেই জেবিসিসিআই এই খাতগুলোর জন্য শুল্ক ছাড় ও প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলেছে, যাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও বাড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একমাত্র স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব কাঠামো থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে পুনরায় উল্লেখ করেন। কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করলে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে—এটাই তাদের মূল তর্ক।

সমাপনী বক্তব্যে জেবিসিসিআই-এর পরিচালক মনাবু সুগাওয়ারা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সঠিক নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী বাজেটে এই বাস্তবমুখী সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে এবং মূল্যবান কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন ঘটবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও বলীয়ান করবে।