১২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে হামে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট রিজভী: দিল্লিকে সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করার আহ্বান ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সড়ক, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ’ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দিল ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি শিল্পমন্ত্রী: বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল দ্রুত পুনঃচালুর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

হরমুজ অবরোধে তীব্র সারসংকট: বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম দ্বিগুণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আংশিক অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে সার-মূল্যে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধান-চাষী দেশগুলোর ওপর, এমনই সতর্কতা জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়ার একটি প্রতিবেদন।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের দাম গত মার্চে ৫৪ শতাংশ বেড়ে এপ্রিলে আরও ১৮ শতাংশ বাড়ে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর প্রতি টন ইউরিয়া সারের জন্য প্রায় ৮৫৭ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। কাতার ও সৌদি আরবের মতো প্রধান সার উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যাহত থাকায় সারের চালান বিশ্ববাজারে পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ার বহু দেশ বিশেষ করে ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম মূলত নাইট্রোজেনভিত্তিক সারেই নির্ভরশীল। মে মাসে ধান রোপণের সময় এই অতিমূল্য কৃষকদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ রূপে দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি জুনের পরও নৌপথ সচল না হয় তাহলে সারঘাটতি আরও তীব্র হবে এবং ধানের ফলন লক্ষ্যনীয়ভাবে কমে যেতে পারে—এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে চালের বিশ্ববাজারেও।

বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক ভারত তাদের প্রয়োজনীয় সারের প্রায় ৪০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে; তাই ভারতে সারঝঞ্ঝাট তৈরি হলে সেটি দ্রুতই বিশ্বজুড়ে চালের সংকটে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডও বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে ধান চাষ কমানোর কথা ভাবছে, যা অঞ্চলের продাকশনকে থেকেও আরও খারাপ করবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, জ্বালানি ও সার সংকট মিলিয়ে কৃষি উপকরণের মোট ব্যয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ফিলিপাইনসহ চাল আমদানিনির্ভর দেশগুলো এবং আফ্রিকার কিছু অংশ ভয়াবহ খাদ্যাভাবে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা এখন গভীর আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে নিকট-Term এশীয় খাদ্য উত্পাদন ও বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুতর প্রভাবিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নারীর ক্ষমতায়ন এবং কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

হরমুজ অবরোধে তীব্র সারসংকট: বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম দ্বিগুণ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আংশিক অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে সার-মূল্যে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধান-চাষী দেশগুলোর ওপর, এমনই সতর্কতা জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়ার একটি প্রতিবেদন।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের দাম গত মার্চে ৫৪ শতাংশ বেড়ে এপ্রিলে আরও ১৮ শতাংশ বাড়ে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক দর প্রতি টন ইউরিয়া সারের জন্য প্রায় ৮৫৭ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। কাতার ও সৌদি আরবের মতো প্রধান সার উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ব্যাহত থাকায় সারের চালান বিশ্ববাজারে পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ার বহু দেশ বিশেষ করে ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম মূলত নাইট্রোজেনভিত্তিক সারেই নির্ভরশীল। মে মাসে ধান রোপণের সময় এই অতিমূল্য কৃষকদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ রূপে দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি জুনের পরও নৌপথ সচল না হয় তাহলে সারঘাটতি আরও তীব্র হবে এবং ধানের ফলন লক্ষ্যনীয়ভাবে কমে যেতে পারে—এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে চালের বিশ্ববাজারেও।

বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক ভারত তাদের প্রয়োজনীয় সারের প্রায় ৪০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে; তাই ভারতে সারঝঞ্ঝাট তৈরি হলে সেটি দ্রুতই বিশ্বজুড়ে চালের সংকটে পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডও বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে ধান চাষ কমানোর কথা ভাবছে, যা অঞ্চলের продাকশনকে থেকেও আরও খারাপ করবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, জ্বালানি ও সার সংকট মিলিয়ে কৃষি উপকরণের মোট ব্যয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ফিলিপাইনসহ চাল আমদানিনির্ভর দেশগুলো এবং আফ্রিকার কিছু অংশ ভয়াবহ খাদ্যাভাবে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা এখন গভীর আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে নিকট-Term এশীয় খাদ্য উত্পাদন ও বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুতর প্রভাবিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।