০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই

বাংলাদেশের নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বর্ষীয়ান নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার নয়—রবিবার নয়—রবিবার নয়—নিষ্ক্রিয়তাঃ দুঃখজনকভাবে তিনি সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান। তিনি প্রায় দশ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও জীবনের সঙ্গে লড়াই হারালেন।

পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নিজ বাড়িতে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে ধানমন্ডির অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ভর্তির পর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল; একবার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতির পর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেয়া হলেও পরে পুনরায় শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে তাকে আবার কৃত্রিম শ্বাসপ্রক্রিয়ার অধীনে নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টাও ফল আনতে পারেনি।

আতাউর রহমান ১৮ জুন ১৯৪১ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ ছিলেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশের থিয়েটার চর্চাকে আধুনিকীকরণ ও সমৃদ্ধ করে তোলায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য স্মরণীয় নাটকে তিনি অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন, এবং তাঁর শৈল্পিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা দেশের নাট্যাঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সরকার তাকে সংস্কৃতি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট সংগঠন, সহকর্মী ও অনুরাগীরা তাঁর প্রয়াণকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর পরিবার দেশবাসীর কাছে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা চেয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাঁর কাজ ও আদর্শ অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশের নাট্যজগত আজ এক মহান শিল্পীকে হারাল—তার সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বর্ষীয়ান নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার নয়—রবিবার নয়—রবিবার নয়—নিষ্ক্রিয়তাঃ দুঃখজনকভাবে তিনি সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান। তিনি প্রায় দশ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও জীবনের সঙ্গে লড়াই হারালেন।

পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নিজ বাড়িতে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে ধানমন্ডির অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ভর্তির পর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল; একবার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতির পর লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেয়া হলেও পরে পুনরায় শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে তাকে আবার কৃত্রিম শ্বাসপ্রক্রিয়ার অধীনে নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চেষ্টাও ফল আনতে পারেনি।

আতাউর রহমান ১৮ জুন ১৯৪১ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ ছিলেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশের থিয়েটার চর্চাকে আধুনিকীকরণ ও সমৃদ্ধ করে তোলায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য স্মরণীয় নাটকে তিনি অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়েছেন, এবং তাঁর শৈল্পিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা দেশের নাট্যাঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সরকার তাকে সংস্কৃতি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট সংগঠন, সহকর্মী ও অনুরাগীরা তাঁর প্রয়াণকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনের এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর পরিবার দেশবাসীর কাছে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা চেয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাঁর কাজ ও আদর্শ অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশের নাট্যজগত আজ এক মহান শিল্পীকে হারাল—তার সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।