০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরছেন আফগান নারী ক্রিকেটাররা

তালেবান ক্ষমতায় কব্জা হবার পর দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়া আফগান নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন আশার সূচনা হলো। অনিশ্চয়তা আর প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এসব নারী ক্রিকেটার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

আগামী মাসে একটি শরণার্থী দলের রূপে তারা ইংল্যান্ড সফর করবেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, এই সফরে শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও অনুশীলনই নয়—তোমরা লর্ডস গ্রাউন্ডে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

ইসিবি বলেছে, এটা কেবল একটি ক্রিকেট সফর নয়; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াগত দিক থেকে এর গুরুত্ব বিশেষ। সফরে যে দলে স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সেই সাবেক চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা, যাদের তালেবান শাসনের সময় জমজমাট খেলাধুলা থেকে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

এদের অধিকাংশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলবার সুযোগ তাদের কাছে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন সেই পথ খুলে যাচ্ছে।

বিশ্বক্রীড়া মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে—সবকিছু হারিয়েও তারা ক্রিকেট ছাড়েনি।’

ইসিবির ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার কনর এই মানবিক উদ্যোগকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কাজই হল অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সফর আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এই সফর তাদের জন্য কেবল ক্রীড়া নয়—এক বছর ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ফিরে পাওয়ার, নিজের সত্তা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়ের একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরছেন আফগান নারী ক্রিকেটাররা

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

তালেবান ক্ষমতায় কব্জা হবার পর দীর্ঘদিন মুখ থুবড়ে পড়া আফগান নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন আশার সূচনা হলো। অনিশ্চয়তা আর প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া এসব নারী ক্রিকেটার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

আগামী মাসে একটি শরণার্থী দলের রূপে তারা ইংল্যান্ড সফর করবেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, এই সফরে শুধু টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও অনুশীলনই নয়—তোমরা লর্ডস গ্রাউন্ডে বসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

ইসিবি বলেছে, এটা কেবল একটি ক্রিকেট সফর নয়; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াগত দিক থেকে এর গুরুত্ব বিশেষ। সফরে যে দলে স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সেই সাবেক চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা, যাদের তালেবান শাসনের সময় জমজমাট খেলাধুলা থেকে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

এদের অধিকাংশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অনুশীলন করে দক্ষতা ধরে রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলবার সুযোগ তাদের কাছে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এখন সেই পথ খুলে যাচ্ছে।

বিশ্বক্রীড়া মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই ক্রিকেটাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে—সবকিছু হারিয়েও তারা ক্রিকেট ছাড়েনি।’

ইসিবির ডেপুটি প্রধান নির্বাহী ক্লেয়ার কনর এই মানবিক উদ্যোগকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ক্রিকেটের কাজই হল অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ সৃষ্টি করা।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সফর আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এই সফর তাদের জন্য কেবল ক্রীড়া নয়—এক বছর ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ফিরে পাওয়ার, নিজের সত্তা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়ের একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।