০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম. মুনির-উজ-জামান আর নেই ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানি চলছে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং আধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর পরই বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইং-ওভার চার্জ সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা — যা গত দুই বছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্লাইং-ওভার চার্জ বলতে বোঝায় কোনো বিমান যদি দেশের আকাশসীমা পার হয়ে যাত্রা করে, তখন সেই ব্যবহারের বিনিময়ে নেওয়া ফি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি যোগ হওয়ার ফলে এখন এসব চার্জ সংগ্রহ করা অনেক সহজ ও সুনিশ্চিত।

পরিসংখ্যান তুলে ধরছে, গত দুই বছরে ফ্লাইং-ওভার চার্জ থেকে রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে আয় ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের ব্যবধানে একই সময়ে রাজস্ব বাড়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকার বেশি।

প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টাওয়ার ও রাডার স্থাপনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ২০ এপ্রিল এই আধুনিক সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

নতুন রাডার সিস্টেমের ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি: এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি রাডার প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। এর ফলে দেশের আকাশে চলাচলকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে শনাক্ত করা এখন বহুলাংশে সহজ।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, পূর্বে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আকাশসীমার একটি বড় অংশ নজরদারির বাইরে থাকত। সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ নিয়ে উড়োজাহাজ ব্যবহার করলেও সেগুলি থেকে চার্জ আদায় করা কষ্টসাধ্য ছিল। নতুন টাওয়ার ও রাডারের কারণে এখন ওই সব এলাকাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ফাঁকফোকর ছাড়াই চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটি সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ফ্রান্সের থ্যালেস কোম্পানি। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪২ কোটি টাকা, যা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হয়েছে।

এই বিনিয়োগ কেবল রাজস্ব বাড়াচ্ছে না, তা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, আধুনিক এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিমানচলাচলে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও মজবুত করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান

চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং আধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর পরই বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইং-ওভার চার্জ সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই খাত থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা — যা গত দুই বছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্লাইং-ওভার চার্জ বলতে বোঝায় কোনো বিমান যদি দেশের আকাশসীমা পার হয়ে যাত্রা করে, তখন সেই ব্যবহারের বিনিময়ে নেওয়া ফি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি যোগ হওয়ার ফলে এখন এসব চার্জ সংগ্রহ করা অনেক সহজ ও সুনিশ্চিত।

পরিসংখ্যান তুলে ধরছে, গত দুই বছরে ফ্লাইং-ওভার চার্জ থেকে রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে আয় ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরের ব্যবধানে একই সময়ে রাজস্ব বাড়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকার বেশি।

প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টাওয়ার ও রাডার স্থাপনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ২০ এপ্রিল এই আধুনিক সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে, যা দেশের এভিয়েশন খাতে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

নতুন রাডার সিস্টেমের ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি: এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি রাডার প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। এর ফলে দেশের আকাশে চলাচলকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে শনাক্ত করা এখন বহুলাংশে সহজ।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, পূর্বে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আকাশসীমার একটি বড় অংশ নজরদারির বাইরে থাকত। সেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ নিয়ে উড়োজাহাজ ব্যবহার করলেও সেগুলি থেকে চার্জ আদায় করা কষ্টসাধ্য ছিল। নতুন টাওয়ার ও রাডারের কারণে এখন ওই সব এলাকাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ফাঁকফোকর ছাড়াই চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটি সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ফ্রান্সের থ্যালেস কোম্পানি। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪২ কোটি টাকা, যা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হয়েছে।

এই বিনিয়োগ কেবল রাজস্ব বাড়াচ্ছে না, তা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, আধুনিক এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিমানচলাচলে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও মজবুত করবে।